‘আগে পড়লেও আমাকেই পড়তে হবে...’

মাওলানার মেয়েরা পড়ছে? গ্রামের অনেকের চোখ কপালে উঠল। কথার ঝড় বইল। তবে মাওলানা মোহাম্মদ হানিফের পাঁচ ছেলেমেয়েই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো ছাত্রছাত্রী। দুজন রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক জয় করেছেন। সবার চেয়ে মেধাবী আমেনা বেগম। তিনটি স্বর্ণ পদক জয় করেছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটির প্রভাষক। তাকে নিয়ে লিখেছেন ও ছবি তুলেছেন শাহাদাত বিপ্লব

এ বছর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন হলো। সবার সেরা অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম বিভাগে প্রথম হওয়া ছাত্রী আমেনা বেগম রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছ থেকে দুটি স্বর্ণপদক নিয়েছেন। গ্রামের মেয়েটির অবিশ্বাস্য সাফল্যের কারণ_ তার বাবা। বরুড়া উপজেলার নুলুয়া গ্রামের কাঞ্চনপুর এমরানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামান্য শিক্ষক। সারাজীবন যাকে নিন্দা, কটু কথা শুনতে হয়েছে। যখন-তখন; যে কেউ ডেকে বলেছেন, ‘হানিফ মিয়া, আপনি মাওলানা; মেয়েদের বিয়ে না দিয়ে কেন লেখাপড়া করাচ্ছেন? ওরা কী আপনাদের দেখবে? স্বামীর সংসার করান। মেয়েদের এত লেখাপড়ার দরকার কী? পড়ে তো থালা-বাসন মাজবে।’ কারও কথায় কান দেননি। পারলে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন, না পারলে চুপ। বাড়িতে মেয়েদের পুরো ঘটনা বলে বলেছেন, ‘মায়েরা, বাবারা লেখাপড়া করো। আমাদের দেখো আর না দেখো, নিজেদের পায়ে দাঁড়াও। সমাজ, এই দেশের মুখ উজ্জ্বল করো।’

তার ছেলেমেয়েরা মা-বাবার দুঃখ বুঝেছেন। তিনটি মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। আমেনা তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে সেরা। সবার বড় খাদেজা বেগমও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ছাত্রী। গণিতে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছেন। একই সমাবর্তন উৎসবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক নিয়েছেন। ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদৌস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্স ও মাস্টার্স। ভালো চাকরির জন্য পড়ালেখা করছেন। সবার বড় ভাই মোহাম্মদ আবু ইউসুফ একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স ও মাস্টার্স। সোনাইমুড়ী ফাজিল মাদ্রাসা, বরুড়ার শিক্ষক। একেবারে ছোট ভাই মোহাম্মদ আবু ইউনুস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স। মাস্টার্স পড়ছেন। মাওলানা হানিফ পাঁচ ছেলেমেয়েকে নিজের সামান্য আয়, জমিজমার ধান, চালে পড়িয়েছেন। তাদের এ জীবনে মায়ের ভূমিকা অনেক। আমেনা বললেন, ‘আম্মা আমাদের খুব কেয়ার করতেন। সময়ের কাজ যেন সময়মতো করি, সব সময় খেয়াল রাখতেন। সময়কে খুব গুরুত্ব দিতেন। আমি ও বড় বোন মেসে থাকতাম। পরীক্ষা শুরু হলে বাড়ি থেকে চলে আসতেন। সময়মতো পড়ায় খুব কঠোর ছিলেন।’

যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চমকে দেওয়া ইতিহাসের অন্যতম নায়িকা তাদের এ মেয়েটির জন্ম ১৯৯১ সালে, বরুড়া উপজেলার নলুয়া গ্রামে। শিক্ষক বাবা সব সময় লেখাপড়াকে হাতিয়ার মেনেছেন। ছেলেমেয়েরাও তেমন। ১৯৯৭ সালে সাত বছর বয়সে, গ্রামের নিয়মে একটু বেশি কালেই পড়ালেখার শুরু পরিবারের সবচেয়ে মেধাবীর। ভর্তি হয়েছেন নলুয়া-মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মা নিয়ম করে পড়তে বসাতেন। বাবা, বড় ভাই, বোনরা পড়া দেখিয়ে দিতেন। এভাবে মনোযোগী ছাত্রীর জন্ম হলো। সব সময় প্রথম বা দ্বিতীয় হয়েছেন আমেনা। ২০০৭ সালে এসএসসি পাস বিজ্ঞানে। পেরপেটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫। এখনো বলেন, ‘স্কুলের মোস্তফা কামাল স্যার আমাদের খুব যত্ন নিতেন। যেকোনো বিষয়, যেকোনো সমস্যায় ভালো সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন।’ তবে আড্ডা ডিগ্রি কলেজ থেকে বছর দুই পর ৪ দশমিক ৫০ জিপিএ পেয়ে পাস করায় আগের মান রাখতে পারলেন না। তাকে বাঁচিয়েছেন কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক শাহ আজিজুর রহমান_ ‘তিনি ভেঙে না পড়ার, জীবনে উন্নতি করার চেষ্টায় সাহস দিয়েছেন।’ বাবা মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন, ‘আব্বার অনুপ্রেরণায় মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে যেখানেই যাব, আমি ভালো করতে পারব।’ ফলে ফলাফল খারাপের দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে বেরোতে পারলেন। আমেনার আত্মবিশ্বাস জন্মাল।

মেয়ে হয়েও ছোট থেকে মোবাইল, কম্পিউটার, গেমস ইত্যাদি নানা প্রযুক্তিতে তার খুব আগ্রহ। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ব্যবহারিকের নানা বিষয়ে খুব মনোযোগী, আগ্রহী ছিলেন। প্রকৌশলের কোনো বিষয়ে পড়তে খুব মন চাইত। সবার মতো পরিবারের চাপে, চিকিৎসক হওয়ার বাসনায় মেডিকেল কোচিং করলেন। সুযোগ হলো না। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিলেন। কয়েকটি বিষয়ে সুযোগ পেলেন। প্রকৌশলে ভালোবাসা বেশি। তেমন বিষয় পাননি বলে ভর্তি হননি। এবারও হতাশ না হয়ে অপেক্ষা করেছেন। 

তাদের জেলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। প্রথম ব্যাচে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হবে। বাবা ডেকে বললেন, ‘মা, কাছে আছে, প্রথম ব্যাচ বলে ভালো করলে শিক্ষক হতে পারবে। ভর্তি পরীক্ষা ভালোভাবে দাও।’ ফের লেগে গেলেন তুমুল গতিতে। খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লেন। টার্গেট কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বা প্রিয় আইসিটি। আইসিটি একমাত্র এখানেই আছে। অসাধারণ মেধাবী ছাত্রীটি ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ২২তম হয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের প্রতিটি বিষয়ে পড়ার সুযোগ হয়েছে। প্রযুক্তি ভালো জানেন বলে আইসিটিতে এলেন। বাবা বললেন, ‘এবার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নটি ভালোভাবে দেখে সফল করো মা।’

নিয়মিত পড়ালেখা করেন বলে শুরু থেকে ভালো ফল ও ভালো করে পড়তে কোনো অসুবিধা হলো না। আমেনা বেগম বারবার বললেন, ‘পড়ালেখা হলো নিজের অর্জন। আগে পড়লেও আমাকে পড়তে হবে, পরে পড়লেও আমাকেই পড়তেই হবে। তাই প্রতিদিন খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানোর মতো পড়েছি। পরীক্ষার আগে রাত জেগে, ভীষণ কষ্টে পড়ালেখায় নেই, এ আমার রুটিন কাজ।’ জীবনের লক্ষ্য সাজিয়ে সেটির যত্ন করা শুরু করলেন। শিক্ষক হতে প্রচণ্ড সিরিয়াসলি পড়েছেন। প্রথম সেমিস্টার থেকে দিনে কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা পড়েছেন। পরীক্ষার আগে ১৬ কী ১৭ ঘণ্টা পড়েছেন। প্রথম সেমিস্টারে প্রথম হয়ে মাৎ করেছেন। সবাইকে চমকে আশাবাদী করেছেন।

তারা বাস্তববাদী পরিবার। নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরায়, শিক্ষা যাদের লড়াইয়ের অস্ত্র; জীবনকে যারা জয় করতে নামেন এ ছাড়া অন্য উপায় তাদের থাকে না। ভালো ফলাফল তার আত্মবিশ্বাসে খুব সহায় হলো। সাফল্যের চাকাটি আর থামেনি। আইসিটি তৃণমূলেও ছড়ালেও বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নতুন বিভাগ। বিষয়গুলোর অন্য সাধারণ বিষয়ের চেয়ে আলাদা, সামান্য কঠিন মনে হয়েছে তার। লেগে থেকেছেন, পড়ালেখা উপভোগ করেছেন। সে হাতিয়ার হয়েছে। তাদের প্রতিটি সেমিস্টারে আট থেকে মোট ১১টি কোর্স আছে। কমের মধ্যেও মোট ৭০ থেকে ৮০টি কোর্স পড়তে হয়েছে। নিয়মিত পড়ে সেগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই সিজিপিএ ৪-এ ৪ পেয়েছেন আমেনা। কটি কোর্সে ভালো পড়েও ফল ভালো পাননি। কেন? ‘হয়তো যে নিয়মে পড়েছি, তার চেয়ে ভিন্নভাবে প্রশ্ন হয়েছে। নয়তো আমার চেষ্টায় ঘাটতি ছিল। কটি কোর্স সত্যিই কঠিন ছিল আইপি টেকনোলজিটি অন্যতম। অনার্স শেষ বর্ষের কোর্সগুলোও খুব কঠিন ছিল। গভীর জ্ঞান অর্জন না করলে এগুলোতে ভালো করা কোনোভাবে সম্ভব নয়।’ ফলে ৩ দশমিক ৯৬ সিজিপিএ নিয়ে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল অনুষদে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। অসাধারণ ফলাফলে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক জয় করেছেন।

সবার চোখে পড়ে যাওয়ায়, স্বপ্নপূরণের হাতছানিতে চাপ বেড়ে গেল আমেনা বেগমের। ভালো ছাত্রীটির শিক্ষকতার প্রস্তাব এলো। লোভনীয় প্রস্তাব গ্রহণ করলেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিলেন। চাকরি ও ধারাবাহিক লেখাপড়া চালানোর দিনগুলোই ছিল সবচেয়ে কঠিন। মনে পড়ে_ ‘প্রচণ্ড চাপ নিতে হয়েছে। বিভাগে প্রথম হয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেয়ে মাস্টার্সেও প্রথম হওয়ার তাড়না ছিল। যেকোনো মূল্যে ভালো করতে খুব পরিশ্রম করতে হয়েছে। সময় ধরে, নিয়ম মেনে ম্যানেজ করেছি।’ প্রতিদিন আরও পড়ে নিয়মিত চাকরি করে মাস্টার্সে পড়েছেন। প্রথম থেকে তারা দুই বোন কুমিল্লা শহরের মনোহরপুরের মেসে একসঙ্গে থাকতেন। খুব মেধাবী খাদিজা বেগমও। ছোট বোনের ফলাফল খারাপ হতে দেননি। প্রতিদিন তাড়া ও প্রেরণা দিয়েছেন। আমেনার মনে পড়ে, ‘আপু গণিত বিভাগের প্রথম। তাই ভালো ফলে তার খুব আগ্রহ আছে। পড়ালেখায় ভালো করার অনেক কৌশল শিখিয়েছেন। শিক্ষকদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে চলতে বলেছেন। বাবা, মা, ভাইয়েরা, ছোট বোনটি, বন্ধুরা সাহায্য করেছে।’ ফলে পেয়েছেন সিজিপিএ চারের মধ্যে ‘৪’! অবিশ্বাস্য ফলাফল। ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে আবেদন করলেন। প্রথমবারেই যোগ দিতে পারলেন। মাওলানা মোহাম্মদ হানিফের সারা জীবনের স্বপ্নপূরণ হলো।

এখন তার মেয়ে শিক্ষক। আইসিটিতে ভালো করার উপায় বলেছেন, ‘প্রতি সেমিস্টারেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিটি ও সিএসইতে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হচ্ছেন। অনেকের ভালো পরামর্শ ও সহযোগিতা জোটে না। বিষয়গুলো বুঝতে, বুঝতেই দু-তিন সেমিস্টার পেরিয়ে যায়। আর খুব ভালো ফলাফল করা যায় না। ভালো পেশাজীবী, উদ্যোক্তা হওয়া যায় সহজে। সবকিছুর জন্য প্রথম থেকে সময়ের মূল্য দিতে হয়। প্রাযুক্তিক বিষয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান লাভ করতে হয়। সারা বিশ্বে প্রযুক্তি দিন দিন উন্নত হচ্ছে। তাল মিলিয়ে চলতে হয়। ব্যবহারিক জ্ঞানের বিকল্প নেই। পরীক্ষায় ভালো করতে প্রশ্নে যা চাওয়া হয়, সেভাবে মূল বিষয় বুঝে ভালোভাবে লিখতে হয়। বেশি বা কম লেখার ওপর নম্বর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে বলে মনে করি না। নম্বর নির্ভর করে কীভাবে খাতায় লেখা হলো সেটির ওপর। ভালো উপস্থাপন কৌশল অনেকটাই এগিয়ে রাখে। লিখতে না পারলে কোর্স বেশি জেনে বা বেশি পড়ে লাভ নেই। কৌশলী হতে হবে। দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আইসিটি পড়ে কেউ বেকার বসে থাকেন না। প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন করতে পারলে সরকারি-বেসরকারি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো চাকরি হয়। প্রযুক্তিতে দক্ষরা পুরো বিশ্ব জয় করছেন। আইসিটির জ্ঞান অন্যগুলোর চেয়ে ভিন্ন। এ বিষয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো জানানো হয়। নেটওয়ার্কিং, কমিউনিকেশন টেকনোলজি শেখানো হয়। সবাই প্রোগ্রামার হন না। নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট অনেক আছেন। পৃথিবীতে বিশাল চাকরির বাজার আছে। পছন্দ করে নিতে হয়। আমাদের দেশ ডিজিটালাইজড হচ্ছে বলে প্রাযুক্তিক জ্ঞান খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো সুযোগ আছে। শিক্ষক হতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ায় সেরা হতে হবে। ব্যবহারিক জ্ঞানে দক্ষদের খুব ভালো কাজের সুযোগ আছে। সরকারি চাকরিগুলোতে কম্পিউটার প্রোগ্রামার, সিস্টেম এনালাইজারের খুব চাহিদা।’ পড়া নিয়ে পড়ে থাকেননি অসাধারণ মেধাবী ছাত্রীটি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ‘আইসিটি ক্লাব’, স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বন্ধু’তে স্বেচ্ছাসেবা দিয়েছেন। নেতৃত্ব গুণ লাভ করেছেন। অবসরজীবনে বাংলা ও ইংরেজি উপন্যাস, বাংলা, ইংরেজি ম্যাগাজিন পড়েছেন। পড়তে ভালো লাগে। বাবার অনেক দেশি-বিদেশি বই মেয়ের কাজে লেগেছে।

ফলে মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ কারও কথায় কান না দিয়ে সাফল্য ঘরে এনেছেন। অন্যদের ভাবনার জগৎ বদলে মেয়েদেরও মানুষ করতে হবে শিখিয়েছেন। ছেলেমেয়েকে সমান যত্ন নিতে হবে।

শিক্ষক হিসেবে ভালো আছেন তার আমেনা। কদিনেই উপলব্ধি হয়েছে ‘একটি জাতিকে গড়ে দেওয়ার অন্যতম ক্ষেত্র শিক্ষকতা। সবচেয়ে বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা। দেশ, জাতিকে সেবা করার সহজ উপায়। দক্ষ, আন্তরিক, দেশপ্রেমী, সৎ ও আদর্শ ছাত্রছাত্রী গড়ে তুলব।’ বিদেশে পিএইচডি করতে যাবেন। আইসিটি কমিউনিকেশন এক্সপার্ট হবেন। নিয়মিত নিজেকে উন্নত জ্ঞানের অধিকারী করবেন। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গবেষণা করতে চান। নিজের উপজেলায় যৌতুক দেওয়া ভেঙে ফেলবেন। মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন করবেন, সারা দেশের মেয়েদের বাঁচাবেন । তাদের প্রথম সমাবর্তন খুব ভালো হয়েছে জানালেন তরুণ বিম্ববিদ্যালয় প্রভাষক, ‘আমাদের সাবেকদের মিলনমেলা ছিল। সবাই কাজ, চাকরি করেন বলে আসতে পারেন না। এসেছেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এত ভালো সমাবর্তনের আয়োজন করে ধন্যবাদ পেয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে দুটি স্বর্ণপদক লাভ পরিবারের সবাইকে খুশি করেছে। আত্মবিশ্বাস ও চেষ্টাই আমাকে এখানে এনেছে।’