খুলনায় নির্দেশনা উপেক্ষা করে জ্বালানি বিক্রি

খুলনা হাইওয়ে পুলিশের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জেলার বিভিন্ন পেট্রল পাম্প মালিকরা বেআইনিভাবে পেট্রল, অকটেন বিক্রি করছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে মুদিখানা দোকান, চায়ের দোকানের সামনে বোতলে করে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে এসব দাহ্য পদার্থ। তবে এ বিষয়ে খুলনা হাইওয়ে পুলিশের তেমন নজরদারি নেই।

খুলনা হাইওয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে আন্দোলনে নামে। তখন পুলিশ প্রশাসন ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে বেশ তৎপর হয়ে ওঠে। তারই অংশ হিসেবে পেট্রল পাম্পগুলোতে ‘নো হেলমেট নো ফুয়েল’ এ স্লোগান সংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার টানিয়ে দেয়। সে অনুযায়ী হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের কাছে পেট্রল বিক্রি বন্ধ করার কথা বলা হয়। কিন্তু পেট্রল পাম্প মালিকরা তা মানছেন না। এমনকি তারা বোতলে, প্লাস্টিকের পাত্রে ও ড্রামে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের খর্নিয়া এলাকার ফাহিম ফিলিং স্টেশনে একটি নছিমনে করে অনেকগুলো ড্রামে পেট্রল, অকটেন নেওয়া হচ্ছে। পাশেই হেলমেটবিহীন এক চালককে দেওয়া হয় পেট্রল। একইভাবে খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের ডুমুরিয়া বাজারের কাছে এম এ লতিফ ফিলিং স্টেশনে হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালককে দেওয়া হয় পেট্রল। ১২ ফেব্রুয়ারি  দেখা গেছে, খুলনা বাইপাস সড়কের নগরীর জয়বাংলা মোড় এলাকার মারিয়া ফিলিং স্টেশন, শিরোপয়েন্ট এলাকার শিকদার ফিলিং স্টেশন, নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ে মেঘনা ফিলিং স্টেশন ও গল্লামারী এলাকার মেট্রো ফিলিং স্টেশনে হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালককে দেওয়া হচ্ছে পেট্রল ও অকটেন। এছাড়া ড্রামে করে বিক্রি করা হয়েছে পেট্রল। দৌলতপুর চুকনগর সড়কের শোলগাতিয়া বাজারের পাশে একটি মুদিখানা দোকানের সামনে বোতলে করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পেট্রল ও অকটেন। পুরনো খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের শাহপুর বাজারের ইজিবাইক স্ট্যান্ডের পাশে একাধিক দোকানে বোতলে করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পেট্রল। একইভাবে কয়রা সদরের বাজারগুলোতে বোতলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে পেট্রল ও অকটেন। সেখান থেকে  মোটরসাইকেলে পেট্রল ও অকটেন দেওয়া হচ্ছে।

এমএ লতিফ ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী বলেন, মালিকের অর্ডার রয়েছে ড্রামে ও বোতলে পেট্রল দেওয়ার। মারিয়া ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. সুজন বলেন, আগের মতো এখন আর নজরদারি নেই। খর্নিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মাহমুদ আলম বলেন, হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি পেট্রল পাম্পে নোটিস টানানো হয়েছে। সেটি যদি না মেনে কেউ জ্বালানি বিক্রি করলে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।