নভেল করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) দক্ষিণ কোরিয়ায় একদিনে ৫৯৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যে চীন থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি, সেখানে শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪২৭ জন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়ছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৭ জন।
চীনের বাইরে দক্ষিণ কোরিয়ায়ই সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।
বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর ডেইগুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এই এলাকা থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।
গত ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে বন্যপ্রাণীর মাধ্যমে ভাইরাসটি প্রথম মানুষের শরীরে আসে। এখন সেটি মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গোটা পৃথিবীতে ২ হাজার ৯২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু হুবেইতেই মারা গেছেন ২ হাজার ৭২৭ জন।
করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক কিংবা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। মৃতদের অধিকাংশই বয়স্ক যাদের আগে থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতা ছিল।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপিরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে। পরিণতিতে ঘটতে পারে মৃত্যু।
এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতোই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।