রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শূন্য আসনের জন্য ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৪ জানুয়ারি। কিন্তু সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করে উল্টো পরীক্ষাই বাতিল করল প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। রবিবার স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।
এ নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির কথা স্বীকার করে বলছেন, এ পরীক্ষার মাধ্যমে স্কুলে আসনসংখ্যার চেয়েও অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হচ্ছিল। উচ্চ আদালতে এ নিয়ে এক অভিভাবকের রিটের কারণে, পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছে।
জানা গেছে, ভিকারুননিসায় গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরীক্ষা নেয়া হয়। পরীক্ষার ফি বাবদ নেয়া হয় ২০০ টাকা। কিন্তু ১ মাস পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছিল না। এ কারণে রবিবার বেইলি রোডে স্কুলটির প্রধান শাখার সামনে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ মিছিল ও আন্দোলন করে।
অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও ফল প্রকাশ করছে না কর্তৃপক্ষ। ফল প্রকাশ করে আমাদের সন্তানদের ভর্তি নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন করা হবে। এ সময় পাঁচ দিনের আল্টিমেটামও দেন তারা।
এ দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরীক্ষার সব কার্যক্রম বাতিল বলে ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা বাবদ গ্রহণ করা ২০০ টাকা ফেরত নিতেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
কেন পরীক্ষা বাতিল করা হলো? জানতে চাইলে স্কুলটির গভর্নিং বডির সভাপতি ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটিতে আসনের চেয়েও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করান হচ্ছিল। এ বছর সেই অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী অন্য স্কুলে চলে যাওয়ায় আসন কিছুটা শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনের বিপরীতে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে একজন অভিভাবক এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করলে বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে পারিনি। যদিও এই পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তটাই ভুল ছিল। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নতুন করে কাউকে ভর্তি করান হবে না। এ কারণেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষার সব কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।‘
যারা পরীক্ষা দিয়েছে তাদের ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তাদের ভোগান্তি হয়েছে। মূলত এই পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তটিই ভুল ছিল’।
তবে এই পরীক্ষাটি নেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না বলেও জানান।