রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একমাত্র মেয়েকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন রমজান আলী (৩০)।
রবিবার সকাল ৬টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে ওই দুর্ঘটনায় শনিবার রমজান আলীর স্ত্রী আসিয়া খাতুন মারা যান।
রমজান আলী গোদাগাড়ী পৌরসভার কেল্লা বারুইপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসাদুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ জনে।
রমজান আলীর চাচা শ্বশুর আবদুল খালেক বলেন, রমজান আলী ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতো। পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকতো। শনিবার শ্যালক সেলিম রেজার বিয়ে ছিল।
বিয়েতে যোগ দেওয়ার জন্য তারা সপরিবারে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসে। রাজশাহীতে মোনাফের মোড়ে তার ভাইরা ভাই মোশাব্বের আক্কাস আলীর বাড়িতে উঠে। শনিবার সকালে তারা প্রাইভেটকার নিয়ে শ্যালকের বিয়েতে গোদাগাড়ীর মহিশালবাড়ি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সবাই মারা গেছে।
রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের কাদিপুর নামকস্থানে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কারটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা দিয়ে পাশে উল্টে গিয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়।
এতে শনিবার মারা যান ৭ জন। নিহতরা হলেন- রাজশাহী নগরীর মোন্নাফের মোড় এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে মোশাব্বের আক্কাস আলী (৪০), তার স্ত্রী হাসনারা বেগম (৩৫), তাদের শিশু সন্তান আদিব আল হাসান (৪ মাস) ও মুশফিরা খাতুন (৮), হাসনারা বেগমের বোন আসিয়া খাতুন (৩০), রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী আতিয়া পূর্ণিমা (২৩) ও নগরীর মেহেরচন্ডি এলাকার প্রাইভেটকার চালক মাহবুবুর রহমান।
আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আসিয়ার স্বামী রমজান আলী ও তার তিন বছরের মেয়ে আফিয়া। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আফিয়া।