রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এর বেশির ভাগই ঘটে অসাবধানতাবশত রাস্তা পারাপারের কারণে। দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যস্ত সড়কগুলোয় পদচারী সেতুও (ফুটওভার ব্রিজ) আছে অনেক জায়গায়। তবে ধানম-িতে সাতমসজিদ সড়কের শংকর অংশে একটি পদচারী সেতুর নির্মাণ ১০ বছর ধরে ঝুলে আছে। তবে এই দীর্ঘসূত্রতার পেছনে তহবিল সংকট ও নির্মিতব্য সেতুটির ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক সংযোগ তার কারণ হিসেবে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিএসসিসির উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১০ সালোর ২৩ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরুর কথা থাকলেও স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও কাগজে-কলমে এই তারিখই (২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সাল) সেতুটির নির্মাণ শুরুর তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত স্থানে (বর্তমান) যাত্রীছাউনি থাকায় কাজ শুরু আরেক দফা দেরি হয়। এরপর ২০১২ সালের অক্টোবরে যাত্রীছাউনি অপসারণের পর কাজ শুরু হয়। তবে ওপর দিয়ে উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক সংযোগ তার থাকায় ২০১৪ সালের শেষের দিকে কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।
মোহাম্মদপুর থেকে ধানম-ি যাওয়া সাতমসজিদ সড়কের যে জায়গাটিতে এই পদচারী-সেতুটির নির্মিত হচ্ছে তার পাশেই কয়েকটি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বিদ্যালয় রয়েছে। সব সময় ব্যস্ত থাকে শংকরের চৌরাস্তা মোড়। ফলে এই পদচারী সেতুটি খুবই জরুরি। পদচারী সেতুটির কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা।
গতকাল সকাল ৯টার দিকে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে যাওয়া এক ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, প্রতিদিন এ সময়ে সড়কটির এই অংশ খুব ব্যস্ত থাকে। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব বলেন। অফিসে তো যেতে হবে। এখানে জেব্রা ক্রসিংও নেই। ফুটওভার ব্রিজটিও এখনো চালু হলো না। তাই এভাবেই যেতে হয়।
রাস্তা পারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন খোকন মিয়া নামের এক ব্যক্তি। সঙ্গে তার বৃদ্ধ বাবা। খোকন বলেন, ‘বাবাকে হাসপাতালে নিতে হবে। এ সময় তো সড়কে প্রচুর গাড়ি। পার হওয়ার জো নেই। অপেক্ষায় আছি কখন গাড়ি সিগনালে থামবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা আকরাম খান বলেন, ‘এ রাস্তা দিয়ে ধানমণ্ডি, জিগাতলা, মোহাম্মদপুরসহ একাধিক এলাকার মানুষের যাতায়াত। ফলে দিনের বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকে সড়কটি। পদচারী-সেতু এখনো চালু না হওয়ায় এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রায় নয় বছর এ সেতুটির কাজ বন্ধ হয়ে আছে। আমরা বরাবরই সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে আসছি। আমার জানা মতে, কোনো জটিলতা নেই। মেয়র মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বলতে পারবেন কেন কাজ বন্ধ হয়ে আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির আঞ্চল-১-এর নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) মো. মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিভিন্ন জটিলতায় কাজটি বন্ধ হয়ে আছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
পদচারী-সেতুর কাজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, এ কাজ বন্ধ থাকার পেছনে সিটি করপোরেশনের তহবিল-সংকট একটি কারণ। আর পদচারী-সেতুর ওপরে উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক সংযোগ তার থাকাও আরেকটি কারণ। ইতিমধ্যে এসব তার মাটির নিচে নেওয়ার উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে। সব ঠিক থাকলে কিছু দিনের মধ্যেই পদচারী-সেতুটির কাজ শুরু হবে।