নুসরাত হত্যা মামলা: ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য হাইকোর্টে দুই বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।

বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের এই বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সোমবার এ বেঞ্চ গঠন করে দেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানান সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান।

তিনি জানান, এ মামলায় পেপারবুক (মামলার যাবতীয় নথি) প্রস্তত হয়েছে আগেই। এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি নির্ধারণের জন্য সম্প্রতি এটি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। শিগগির শুনানি শুরু হবে।  

বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে দণ্ড কার্যকর করতে হয়। এটিই ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা জেল আপিল ও আপিলের সুযোগ পান। বিধান অনুসরন করে বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

গত বছরের ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন ফেনীর বিচারিক আদালত। রায়ের অনুলিপি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের ডেথ রেফারেন্স ২৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে আসে। ওই দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গণমাধ্যমকে জানান, নুসরাত হত্যা মামলায় পেপারবুক প্রস্তুত, ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন তিনি।

ফেনীর সোনাগাজীতে স্থানীয় ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (পরে বরখাস্ত) সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে একই মাদ্রসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা করলে নীপিড়নকারী ওই অধ্যক্ষ ও তার অনুসারীদের রোষানলে পড়েন তিনি। গত ৬ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসার সাইক্লোন সেন্টার ভবনের ছাদে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় সিরাজসহ ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন)।

সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গত ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যায় সিরাজসহ ১৬ আসামির সবাইকে প্রাণদণ্ড দেন। পাশাপাশি আসামিদের এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।