আর্থিক সচ্ছলতা কারণে জাঙ্ক ফুডসহ (ফাস্ট ফুড) নানা ধরনের খাবারের ভিন্নতা এসেছে। স্বাস্থ্য সম্মত খাবার বাসায় রান্না করলেও সন্তানেরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বার্গারসহ নানা খাবার ইচ্ছা মতো খাচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে রাত জাগছে ও দিনে ঘুমাচ্ছেন মানুষ। এমনকি ঢাকা শহরে পায়ে হাঁটার জায়গা নেই। এসব কারণেই অসংক্রামক রোগ বাড়ছে বলে জানান বক্তারা।
সোমবার নগরীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মিলনায়তনে ‘ডেভেলপমেন্ট অব সোশ্যাল অ্যান্ড বিহ্যাভিওরাল চেঞ্জ কমিউনিকেশন (এসবিসিসি) স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান ফর এনসিডিসি (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তার এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসনিডিসি’র লাইন ডিরেক্টর হাবিবুর রহমান, এনসিডিসি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আয়েশা আক্তার, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. আব্দুল আলিম।
বক্তারা বলেন, আগে সংক্রামক রোগ নিয়ে ভয় করতাম। কিন্তু এখন অসংক্রামক রোগ, ডায়াবেটিক, উচ্চ রক্ত চাপ, ইউরিক অ্যাসিড, গ্যাসট্রিক, কিডনি রোগ, হৃদ্রোগ, ক্যানসার, হাঁপানি ও আর্থরাইটিস্ ভয়ের কারণ। তবে মনে রাখতে হবে অসংক্রামক রোগে আমরা নিজেরাই সৃষ্টি করি। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও একটু সচেতন হলে এই সব রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে পারি। ধূমপান ও জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে থাকতে হবে। আমরা মডার্ন হয়ে গেছি গাড়িতে চলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পায়ে হাঁটতে হবে। সুগার ও কোলেস্টেরল লেবেল কমিয়ে আনতে হবে। প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাও জরুরি। এই কাজগুলো করলে অসংক্রামক রোগ থেকে পরিত্রাণ মিলবে বলে মনে করি।
নিয়ম মেনে চললে অসংক্রামক রোগ থেকে মুক্তি মিলবে। ধূমপান অথবা তামাক পরিহার করা, সপ্তাহের অধিকাংশ দিন আধ ঘণ্টার করে হাঁটা ও হালকা ব্যায়াম করলে এই রোগে উপকার মিলবে। স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাবার হৃদ্যন্ত্রকে সুরক্ষা দেবে। অসংক্রামক রোগ থেকে মুক্তি পেতে চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং বেশি করে সবজি, ফল, দানাদার শস্য, কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া জরুরি। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি। নিয়মিত শরীর চর্চার অনেক উপকার রয়েছে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে এটি ওজন কমাবে, রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে আনবে, আর ইনসুলিনের সক্রিয়তাকে বাড়িয়ে রক্তে শর্করার পরিমাণ মাত্রার মধ্যে রাখবে।
দেশে ৫০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। আর উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। দেশে ১০ থেকে ১১ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত ৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ৯৪ শতাংশই কমপক্ষে একটি অসংক্রামক রোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এসনিডিসি’র লাইন ডিরেক্টর হাবিবুর রহমান বলেন, অসংক্রামক রোগ থেকে মুক্তি পেতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ঢাকা শহরে হাঁটার পথ নেই সিটি করপোরেশনকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। খাবার পরিবর্তন করতে হবে। আগে কমিউনিকেবল (সংক্রামক) রোগে বেশি মানুষ মারা যেতেন। এখন বেশি মানুষ মারা যান নন-কমিউনিকেবল বা অসংক্রামক রোগে।
তিনি আরও বলেন, আগে ধারণা করা হতো আর্থিকভাবে সচ্ছলদের মধ্যে এ ধরনের রোগ হয়, কিন্তু এখন নগরায়ণের ফলে দরিদ্র মানুষের মধ্যেও নন-কমিউনিকেবল রোগ বাড়ছে। এদের খাবারে বৈচিত্র্য থাকে না, ফলে শুধু ভাত খেয়ে পেট ভরতে হয়, এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বাড়ে।
বক্তারা আরও বলেন, নন-কমিউনিকেবল রোগ পরিবারকে আর্থিকভাবে ধ্বংস করে দেয়। সবাইকে এখনই সচেতন হতে হবে। নিয়মিত শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে। নিয়মিত হাঁটাচলাসহ ধূমপান ও তামাক ছাড়তে হবে। তবেই আমরা নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ থেকে রক্ষা পাব।
সরকার ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, কলেরা, কালা জ্বর, কুষ্ঠ, গুটিবসন্ত, গোদ রোগ, দাদ, ডেঙ্গুজ্বর, ধনুষ্টঙ্কার ও যক্ষ্মার মতো রোগ বা সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বিনা মূল্যে এসব রোগের চিকিৎসাও দিচ্ছে। অথচ অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সংক্রামক রোগ নিরাময়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হলেও অসংক্রামক রোগে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না।