বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় (গ্যালারি-৬) গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে শিল্পী আখতার মাহমুদ কাজলের আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে ১০ দিনব্যাপী প্রদর্শনী। ‘মুক্তিযুদ্ধ ও নৈসর্গিক বাংলাদেশ’ শিরোনামে এ প্রদর্শনী ১১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে শিল্পীর আঁকা ১০২টি তৈলচিত্র। যেখানে উঠে এসেছে বাঙালির লড়াই সংগ্রামকে কেন্দ্র করে আঁকা প্রতিকৃতি, তাদের মুখাবয়ব ও অভিব্যক্তি, সেই সঙ্গে প্রকৃতি-অনুপ্রাণিত বিমূর্ত ভাব তার চিত্রকর্মকে এনে দিয়েছে স্বতন্ত্রশৈলী। চল্লিশ বছর ধরে শিল্পচর্চা করলেও প্রথমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই শিল্পীর চিত্রকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী।
গতকাল জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু। উপস্থিত ছিলেন শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে গোলাম আরিফ টিপু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কারও কাছে আবেগের। কারও কাছে বড় রকমের চেতনার। সেই আবেগ-চেতনাই ক্যানভাসজুড়ে ফুটে উঠেছে শিল্পী কাজলের তুলির আঁচড়ে।’ শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, ‘৪০ বছর ধরে শিল্পচর্চার পরেও তিনি কখনো প্রদর্শনী করেননি। এটা বিস্ময়কর! তার প্রতিটি শিল্পকর্মে দেশ-মা-মাটির টান স্পষ্ট। শিল্পকর্মের মাধ্যমে শান্তির জন্য আশা এবং আকাক্সক্ষা ফুটিয়ে তুলেছেন।’
আখতার মাহমুদ কাজল জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৫ সালের ১ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কমলাকান্তপুর গ্রামে। দারিদ্র্যের কশাঘাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হয়নি এই স্বশিক্ষিত চিত্রশিল্পীর। মূলত তেলরঙের চিত্রকর্মে সিদ্ধহস্ত তিনি। শিল্পী কাজল বলেন, ‘শিল্পকর্মে আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি স্কুলে পড়ি। বেড়ে উঠেছি গ্রামেই। বাবার পেশাগত কাজের সুবাদে ঘুরেছি দেশজুড়ে। খুব কাছ থেকে দেখেছি পাক হানাদার বাহিনীর নির্যাতন; যা আমাকে নাড়া দিয়েছে। বাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যও আমাকে টেনেছে। আমার শিল্পকর্মগুলোতে এসবই তুলে ধরেছি।’