সড়ক নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে

কুমিল্লার মুরাদনগরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক হাবিলদারের বাধায় ১০ হাজার গ্রামবাসীর স্বপ্নের একটি সড়ক নির্মাণ বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের কুড়াখাল গ্রামের প্রভাবশালী বিজিবির হাবিলদার মোশারফ হোসেন, শাহ আলম মাস্টার, শাহ আলম সরকার, বাতেন সরকার গংদের বাধার মুখে চার গ্রামের মানুষের চলাচলের ওই সড়কটির কাজ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা জানায়, ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের অর্থায়নে মুরাদনগরের কুড়াখাল বাজার থেকে কুরুণ্ডী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার ফুট সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে এসে ওই প্রভাবশালীদের বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই এলাকার কুড়াখাল, কুরুণ্ডী, রোয়াচালা এবং চুলুরিয়া গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে ওই এলাকার তিন শতাধিক ভুক্তভোগী স্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঙ্গরা বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। স্থানীয়রা এ নিয়ে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের কুড়াখাল, কুরুণ্ডী, রোয়াচালা ও চুলুরিয়া গ্রামের ১০ হাজার বাসিন্দাকে সড়ক না থাকায় বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে চলাচল করতে হতো। পরে ২০১৮ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ হেঁটে চলাচলের জন্য একটি সড়ক নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু কোনো যানবাহন এ সড়কে চলতে পারত না। শেষ পর্যন্ত কুড়াখাল বাজার থেকে কুরুণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার ফুট রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হলে দুই মাস কাজ চলে।

এলাকাবাসী ফজলুল হক, সহিদ ভঁ‚ইয়া, আবদুল মজিদ, আবদুস ছালাম, সেলিম ভঁ‚ইয়া, হুমায়ন ভঁ‚ইয়া, মিজান সরকার জানান, গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এ কাজের শেষ পর্যায়ে এসে ঢাকার পিলখানা বিজিবি সদর দপ্তরে কর্মরত কুড়াখাল গ্রামের বাসিন্দা হাবিলদার মোশারফ হোসেন এবং শাহ আলম গংরা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

এলাকাবাসী জানায়, বিজিবির সদর দপ্তর পিলখানার প্রশাসনিক শাখায় ডিউটি রানার হিসেবে কর্মরত হাবিলদার মোশারফ গ্রামবাসীকে নানাভাবে হুমকিধমকি দিয়ে এলাকায় নিয়মিত ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন। এতে ওই স্বপ্নের সড়কটির নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কুড়াখাল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ওই সড়কটি নির্মাণ না হওয়ায় তাদের স্কুলে যেতে-আসতে কষ্ট হচ্ছে।

তবে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখানোসহ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিলদার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমার জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে দেব না।’ শাহ আলম সরকার বলেন, ‘আগে চলাচলের জন্য রাস্তা দিয়েছি, এখন জায়গা দেব না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাস বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।