ক্রীড়াঙ্গনের এক আলোচিত নাম শফিউল্লাহ আল মুনীর। অতীতে কোনো যোগসূত্র না থাকা সত্ত্বেও কেবল টাকার জোরে তিনি আলোচনায় চলে এসেছিলেন হকি অঙ্গনে। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছুটিয়ে একটা সময় হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকও হতে চেয়েছিলেন তিনি। পারেননি। তবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকই বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের সভাপতি বনে যান। যদিও খেলাটির দায়িত্ব নিয়ে তেমন কোনো উন্নতি আনতে পারেননি। গত ডিসেম্বরে নেপাল এসএ গেমসে যে ছয়টি খেলায় বাংলাদেশ পদক জিততে ব্যর্থ হয়, তার একটি সাইক্লিং। মুনীরের হুট করে সভাপতি বনে যাওয়া নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে কানাঘুষাও ছিল অনেক। অভিযোগ ছিল উপরের মহলকে ম্যানেজ করে সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন তিনি। সেই মুনীর গতকাল হুট করেই সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ক’দিন আগে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক স্টান্ট সাইক্লিংয়ের লোগো উন্মোচন করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে সাইক্লিং নিয়ে নানা স্বপ্নের কথা জানিয়ে ছিলেন তিনি। অথচ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন বলে জানান তিনি।
পদত্যাগপত্রে মুনীর উল্লেখ করেন, ‘বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং ভঙ্গুর বিধায় আমি আমার দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে করতে পারছি না। আমার এহেন শারীরিক অবস্থার জন্য সাইক্লিং ফেডারেশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যতটুকু সময় দেওয়া প্রয়োজন তা আমার জন্য নির্বাহ করা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই ফেডারেশনের সভাপতির পদ থেকে আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সবিনয় অনুরোধ করছি।’ এসএ গেমসে ব্যর্থতার পর সাইক্লিং সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি সভাপতি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির ওপর অনাস্থা এনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে চিঠি দেন। তখন থেকেই মূলত চাপে ছিলেন মুনীর।