ঢাকা-১৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হকের বাধার মুখেও কেরানীগঞ্জের চর ওয়াশপুরে বুড়িগঙ্গা তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জের চর ওয়াশপুরে এমপি আসলামুল হকের পাওয়ার প্ল্যান্টের যে জায়গায় অভিযান শেষ হয় বুধবার ওই জায়গা থেকে পুনরায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় এমপি আসলামুল হকসহ প্রায় ৭০-৮০ জন লোক মায়শা পাওয়ার প্ল্যান্টে বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ করতে আসেন। এমপি বিআইডব্লিউটিএকে নদীর সীমানা নির্ণয়ের লাল পতাকা লাগানো বন্ধ করতে বলেন।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএর অফিসার ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার স্থাপনাগুলো ভেঙে দিচ্ছে। ২০০৫ সালের জরিপে আদি বুড়িগঙ্গায় আমার জায়গার আগেও ১৮ কিলোমিটার গেছে। আগে সেগুলা পরিষ্কার করেন তার পরে আমারটা পরিষ্কার করব। শুধু আমারটা কেন ধরা হচ্ছে? আগে ১৮ কিলোমিটার পরিষ্কার করলে আমারটা আমি নিজে পরিষ্কার করব’।
তবে তার বাধা সত্ত্বেও অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত রাখে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান হাকিম। বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে ঢাকা-১৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মালিকানাধীন মাইয়া পাওয়ার প্ল্যান্টের ১০টি অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ ছাড়া ৫০ হাজার ঘনফুট বালু অপসারণ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ঢাকার চারপাশে যে চারটি নদী আছে তার সমস্ত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। নদী দখলদারদের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আমরা কারো কোনো বৈধ জায়গা উচ্ছেদ করছি না। যে নদীর জায়গা যতটুকু দখল করেছে ঠিক ততটুকুই ভাঙা হচ্ছে। এটি নদীর জায়গা। সবাইকেই নদীর অবৈধ দখল থেকে উচ্ছেদ করা হবে’।
১০ মার্চ থেকে পুনরায় উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানান একেএম আরিফ উদ্দিন।