পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের জামিন নিয়ে নাটকীয়ভাবে তাৎক্ষণিক বদলি হওয়া বিচারক মো. আবদুল মান্নানের পরিণতি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মতো হতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রিজভী বলেন, দুর্নীতির একটি মামলায় পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল দম্পতির জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুল মান্নানের পরিণতি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মতো হতে পারে। সরকারের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা যখন বলেন, সরকার আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ করে না, তখন আওয়ামী লীগ লজ্জা না পেলেও বিবেকবান দেশবাসীর লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। এখন দেশ চলছে উল্টোপথে। শামসুর রাহমানের ভাষায় ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের মনে করছেন আইন আদালতের ঊর্ধ্বে। নিজেদের ইচ্ছেমতো রায় বের করার জন্য দেশের আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ছাত্রদলের সাবেক এ সভাপতি বলেন, বিচারকের কাজ এখন ন্যায়বিচারের মাধ্যমে রায় দেওয়া নয়, ক্ষমতাসীন মহলের কাছ থেকে পাঠানো রায় পড়া। আওয়ামী লীগ আইন আদালতকে তাদের পকেট আর ভ্যানিটি ব্যাগে ভরেছে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন এ কথা এখন নিছক কৌতুক। আবার দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারারুদ্ধ গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার জামিনের প্রসঙ্গ এলেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-নেতারা বলেন, আদালতের ওপর নাকি তাদের হাত নেই। তাহলে পিরোজপুরের আদালতে দিনে-দুপুরে এটা কোন হাতের কালো থাবা? যদি দেশে আইনের শাসনের লেশমাত্র থাকত তাহলে খালেদা জিয়া আজ জেলে থাকতেন না।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে সামনে রেখে সারা দেশে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব। ব্যবসায়ীদের দিন কাটছে চাঁদাবাজদের আতঙ্কে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যতই বলুন না কেন ‘মুজিববর্ষের নামে চাঁদাবাজির দোকান দেওয়া যাবে না’– কিন্তু এটি তার মুখের কথা, বাস্তবে সারা দেশে এর কোনো প্রতিফলন নেই। নেতারা বড় বড় ব্যবসায়ীকে ডেকে ডেকে চাঁদার ফর্দ ধরিয়ে দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনীর হোসেন প্রমুখ।