সংবিধানে ৭ মার্চের ভাষণ ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করায় রিট আবেদন

সংবিধানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের কিছু শব্দ চয়ন, বাক্য ও বাক্যের গঠন ভুলভাবে উপস্থাপনসহ কিছু শব্দ বাদ দেওয়ায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রাজবাড়ীর রায়নগর গ্রামের কাশেদ আলী নামের এক ব্যক্তির পক্ষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস এ আবেদনটি করেন।

সুবীর নন্দী দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণ যেভাবে দিয়েছিলেন সংবিধানে সেই ভাষণের বেশ কিছু অংশ সঠিকভাবে আসেনি। সংবিধানে ভাষণের অনেক জায়গায় শব্দ চয়ন, বাক্য, বাক্যের গঠন ভুলভাবে উপস্থাপনসহ কিছু শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে। যেমন বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর বলেছিলেন। কিন্তু সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত সেই ভাষণে খুলনা শব্দটি নেই।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।’ কিন্তু সংবিধানে লেখা আছে ‘হাতে’। বঙ্গবন্ধু ভাষণে দুইবার বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ কিন্তু সংবিধানে এই বাক্যটি একবার লেখা হয়েছে।

সুবীর নন্দী দাস বলেন, ‘এ ধরনের প্রায় অর্ধশতাধিক শব্দ চয়ন, বাক্য ও বাক্যের গঠন ভুলভাবে সংবিধানে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেটি অনভিপ্রেত। বঙ্গবন্ধুর ভাষণটির একটি ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এটি সংবিধানে ভুলভাবে উপস্থাপন কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এসব যুক্তি উল্লেখ করে এ রিট আবেদনটি করা হয়েছে।’

তিনি জানান, কার্যতালিকায় এলে আবেদনটির ওপর ৮ মার্চ বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

সুবীর নন্দী দাস আরও জানান, সংবিধানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ওই ভুল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির পাশাপাশি সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি বাংলা ও ইংরেজিতে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা হয়েছে। রিট আবেদনে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালকসহ চারজনকে বিবাদী করা হয়েছে।