২০০৫ সালে লর্ডসে অভিষিক্ত সেই কিশোরজীবন থেকে আজ পর্যন্ত, কে মনে করতে পারে মুশফিকুর রহিম কখনো বাদ পড়েছেন। বিশ্রামও নেননি ভুলে। চোটের কারণে এক দফা ম্যাচ মিস করার স্মৃতিটা বড় কষ্ট দেয় তাকে। সেই মানুষটা আজ বসে থাকবেন ড্রেসিং রুমে। মাঠে খেলবে দল। কারণ, তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে থেকে বাদ! গতকাল ওয়ানডে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাও যে ব্যাপারটা মানতে পেরেছেন তা মনে হয় না।
পাকিস্তান সফরে যাবেন না। এপ্রিলের ১ তারিখ করাচিতে একটা ওয়ানডে। এমন বিরাট কিছুও না। কিন্তু তৃতীয় দফায় ওখানে তাকে নিতে চাপাচাপি করা হলো। পরিস্থিতি একটু বিশ্রি দিকেও মোড় নিয়েছিল বিসিবির বাড়াবাড়ি উদ্যোগে। যদিও তারা তা স্বীকার করেন না। প্রধান নির্বাচক জানিয়ে গিয়েছিলেন, টিম ম্যানেজমেন্ট পাকিস্তানের ওই ম্যাচের দলটাকে এখানে একটু পরখ করে দেখতে চায়।
‘এগুলো কিন্তু ছোটখাটো টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত। এগুলো আসলে ক্যাপ্টেনও দিতে পারে না।’ মাশরাফী বরাবর তার দলের খেলোয়াড়দের আগলে রাখা অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত। সেই তিনি বলছিলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি মুশফিক এমন একজন খেলোয়াড়, কখনো যদি ব্যাড প্যাচও যায় তারপরও যে পরিমাণ রান সে করেছে, বাংলাদেশের জেতার পেছনে তার অবদান এসব চিন্তা করতে হবে। নাম্বার ফোরে এখন সে বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়।’ বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচে তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় মুশফিককে মাশরাফী পাচ্ছেন না। তিনি আরও বলছিলেন, ‘সবকিছু যদি বিবেচনার জায়গায় আনেন তাহলে যে ছেলেটা পারফর্ম করে আসছে, ১২/১৩ বছর বাংলাদেশের হয়ে খেলেছে, সে যাতে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে না থাকে তা একটা নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত খেয়াল রাখা উচিত বলে আমি করি।’
তার মানে ‘হ্যান্ডল উইথ কেয়ার’। ২০১৯ বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচের একাদশে চারটি পরিবর্তন নিয়ে ওই জুলাই মাসেই শ্রীলঙ্কায় নেমেছিল বাংলাদেশ। আবার তৃতীয় বা শেষ ওয়ানডেতে খেলা ৫ জন ছিলেন না জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা প্রথম ওয়ানডেতে। কিন্তু যেভাবে মুশফিককে নিয়ে ঘটনাক্রম এগিয়েছে তাতেই বুঝি আপত্তি দেশের সবচেয়ে সেরা অধিনায়কের, ‘মুশফিককে কীভাবে হ্যান্ডেল করবেন? এখন মুশফিককে নিয়ে যদি জোকিংয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যান, তাহলে আমাদের কি অ্যাসেট যা নিয়ে আমরা নাড়াচাড়া করছি?’
নিজের শেষ। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে প্রথম সিরিজ। নিজস্ব অবস্থানও খুব সহজ ছিল না। মাশরাফী হয়তো কর্র্তৃত্বে ছিলেন না বলে এমন ঘটল। কিন্তু এমন নাও ঘটতে পারত। কি হতে পারত সেটাই শুনুন মাশরাফীর মুখে, ‘এই যে প্রক্রিয়া সেটি যদি মুশফিকের সঙ্গে নরমভাবে আলোচনা করা হয়, মুশফিককে যদি বোঝানো সম্ভব হয় যে এটা হচ্ছে আমার প্রক্রিয়া তোমার ধারণাটা কী? তখন যদি দুই পক্ষ একটা জায়গায় আসতে পারে তখন জিনিসটা আমার কাছে মনে হয় আলোচনার বিষয় না। সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে মুশফিকের সঙ্গে আলোচনা করা বা বোর্ড থেকে একটা ভালো ও যথাযথ সিদ্ধান্তে আসা যেটায় মুশফিকও মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকবে এবং বোর্ডেরও পরিকল্পনা সফল হবে। সেই জায়গাটায় আসতে পারলে আমি মনে করি ঠিক আছে।’