২০১৭-১৮ সালে দেশব্যাপী যুব গেমস আয়োজন করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে তারা ধাপে ধাপে গেমসটি আয়োজন করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটা নাড়া দিয়েছিল। সবাই ভেবেছিল নবম বাংলাদেশ গেমসও দেশব্যাপী আয়োজিত হবে। বিশেষ করে মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে এবার বঙ্গবন্ধুর নামে হতে যাচ্ছে গেমস। কিন্তু সবার ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ১ থেকে ১০ এপ্রিল ৩১টি ডিসিপ্লিনের এই আসরটি হচ্ছে অনেকটা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের আদলে।
সাধারণত ফেডারেশনগুলো জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করে নিজেদের পছন্দমতো সময়ে। তারা জেলায় জেলায় গিয়ে খেলা আয়োজনের ধারও ধারে না। ঠিক তেমনই বাংলাদেশ গেমসেও সেই আদলেই হবে তবে সেটা সরকারের অর্থায়ন আর বিওএ’র ব্যবস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে। গতকাল এই গেমসের লোগো ও মাসকট উন্মোচন অনুষ্ঠান হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংবলিত লোগোটি মুজিববর্ষের সঙ্গে মানানসই। তবে কপোত নামে যে মাসকটটি প্রদর্শিত হলো, তাকে আর যাই হোক পায়রা বলা চলে না। সাদা চোখে তা অনেকটা হাঁস ও মুরগির মিশেলে গড়া কোনো প্রাণীর মতো।
অবশ্য বিওএ’র মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা আশা করেছেন গেমস আয়োজনের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে এবার, ‘আশা করছি আগের চেয়েও এবার ভালো একটা আয়োজন আমরা করতে পারব।’ প্রায় ১০ হাজার ৬০০ ক্রীড়াবিদ ৩৯৬টি স্বর্ণ, সমান সংখ্যক রৌপ্য এবং ৫৪৬টি ব্রোঞ্জপদকের জন্য লড়বে। গেমসের মশাল র্যালি শুরু হবে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে। ৩১ মার্চ অর্থাৎ গেমসের আগের দিন মশাল সেখান থেকে র্যালি করে পৌঁছবে রাজধানীর বুকে। পরের দিন গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিওএ’র সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন গেমসে যে খেলাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন, ‘২০১৩ সালের যে নীতিমালা ছিল সেটাই অনুসরণ করেছি। একটি খেলা কেবল অন্তর্ভুক্ত করেছি, রোলার স্কেটিং। এই খেলাটার উদ্যোগ দেখে আমাদের মনে হয়েছে এটা থাকা উচিত। এছাড়া এটা বাংলাদেশ গেমস। এখানে খারাপ-ভালো সবারই অংশগ্রহণের অধিকার আছে। তাই আমরা চেষ্টা করেছি যত বেশিসংখ্যক খেলা অন্তর্ভুক্ত করতে। তবে এখানে যারা ভালো করবে তাদেরকে আন্তর্জাতিক আসরে খেলার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’ বাংলাদেশ গেমস আয়োজনের জন্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা চেয়ে সরকারের কাছে অনেক দিন আগে আবেদন করেছিল বিওএ। এখনো অবশ্য অর্থ ছাড় পায়নি বিওএ। মহাসচিব শাহেদ রেজা বলেন, ‘আমরা অনেক দিন আগে সরকারের কাছে একটা বাজেট পেশ করেছি। কিন্তু এখনো কোনো অর্থ বরাদ্দ পাইনি। কিন্তু আমরা বসে থাকিনি। আমাদের তহবিল থেকে সব খরচ নির্বাহ করছি। পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে। ফেডারেশনগুলো ফেব্রুয়ারি থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছে। তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’ করোনাভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এটা নিয়ে ভাবনা আছে বিওএর। গেমসকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী মেডিকেল সেল গঠনের কথা জানান বিওএ কর্তারা।