কক্সবাজারের চকরিয়ায় যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত চার পুলিশ কর্মকর্তা ও ছয় কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ মতিউল ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় চকরিয়া থানার একদল পুলিশ।
এ সময় পুলিশের পিটুনিতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিসহ আটজন আহত হয়।
পরে বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারে নির্দেশে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম, এসআই মিজান, এসআই তৃষ্ট লাল বিশ্বাস, এএসআই জেড রহমান ও ৬জন কনস্টেবলসহ ১০জনকে প্রত্যাহার করা হয়।
প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর স্ত্রী ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নেচারা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আকস্মিকভাবে চকরিয়া থানার একদল পুলিশ আমাদের বাড়িতে (মুক্তিযোদ্ধা কুঠির) এসে প্রধান ফটকের গেইট বন্ধ করে দিয়ে বাড়ির ঢুকে তল্লাশির নামে ব্যাপক ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালায়। এ সময় পুলিশ দলের সদস্যরা অশ্লীল গালিগালাজ করে বাড়ির দেয়ালে টাঙানো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নামিয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধার কুটিরের ছয়টি কক্ষের জানালা ও আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে।
নেচারা বেগম আরও বলেন, তল্লাশির নামে পুলিশ সদস্যরা বাড়ির আলমারি ভেঙে ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ চার লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
হামলায় গুরুতর আহত ছেলে মুরাদুল করিম সিফাতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর ছেলে এম কে মোহাম্মদ মিরাজ বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কাইছারের ইন্ধনে পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে আমাদের বাড়িতে ঢুকে ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালায়।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ওই এলাকায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে গেলে আসামি পক্ষের লোকজন পুলিশের উপর হামলা চালায়। পরে পুলিশ হামলাকারীদের খুঁজতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ করে। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।