যুক্তরাষ্ট্রে নারী নেতৃত্ব ‘মিথ’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থিতার দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। কোনো প্রাইমারিতে দূরে থাক, সুপার টুইসডেতে নিজ রাজ্যেও তিনি তৃতীয় হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সরে দাঁড়ানোর পর কেমব্রিজে বাড়ির বাইরে কর্মী-সমর্থকদের ওয়ারেন বলেন, ‘লড়াইয়ে নামার সময় আমাকে বলা হয়েছিল, দলের গতিমুখ দুটি। আমি ভেবেছিলাম, এ রকমটা হতে পারে না। ভেবেছিলাম, নিশ্চয়ই দলের ভেতর ভিন্ন রকম কোনো প্রচারের সুযোগ রয়েছে। যদিও ব্যাপারটা সে রকম হয়নি।’

কিন্তু ওয়ারেনের সরে যাওয়ার পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে নারী নেতৃত্ব মেনে নেওয়া নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে। সিএনএন বলছে, ২০০৭ সালে হিলারি ক্লিনটন প্রথম বক্তব্যে বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি এবং বিজয়ী হব।’ এরপর তিনি দ্রুত স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রথম কোনো নারী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। ২০১৬ সালে প্রাইমারি পেরিয়ে হিলারি প্রার্থী হলেও শেষ পর্যন্ত একজন অসৎ রিপাবলিকানের (ডোনাল্ড ট্রাম্প) কাছে হেরে যান। এরপর থেকে দেশটির সরকারি দপ্তরে নারী কমছে।

লেখক মেরিয়ান উইলিয়ামসন ও হাওয়ায় রিপসহ প্রতিশ্রুতিশীল ছয় নারী এবার ডেমোক্র্যাট থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে ওয়ারেন, মিনোসোটার সিনেটর অ্যামি ক্লবুচার, নিউইয়র্কের সিনেটর ক্রিস্টেন গিলিব্র্যান্ড ও ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা হ্যারিসকে বড় দৌড়ের প্রার্থী মনে হলেও শেষ পর্যন্ত সরে গেছেন। লড়াইয়ে আরেক নারী তুলসি গ্যাবার্ড থাকলেও বেশির ভাগ প্রাইমারিতে ১ শতাংশের কম ভোট পেয়েছেন। তিনিও শিগগিরই সরে দাঁড়াবেন। ফলে ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো নারী থাকছেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক প্রেসিডেন্ট তো বলেই দিয়েছেন কমলা হ্যারিসের বড় অযোগ্যতা তিনি কৃষ্ণাঙ্গ।

সমালোচকরা নারীদের এভাবে বারবার ছিটকে পড়ার পেছনে লৈঙ্গিক অবস্থানকে সামনে আনছেন। সঙ্গে সামাজিক প্রভাবকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, যে দেশে নারীদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১০০ বছর লেগেছে, সেখানে এত তাড়াতাড়ি নারী নেতৃত্ব মেনে নেবে না। দেশটির রাজনীতির বড় সমস্যা অসুস্থতা। এ থেকে উত্তরণে কঠিন দাওয়াই দরকার।

প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বক্তব্যেও একই সুর, ‘যুক্তরাষ্ট্র নারী প্রেসিডেন্টের জন্য প্রস্তুত হলেও নারীর প্রতি বিদ্বেষ এখনো রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আছে। যতবারই আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী বা এজাতীয় কিছু বলা হয়, আমি প্রায়ই কেঁদে ফেলি। কারণ, এটি যে সত্য নয়, তা আমি বিশ্বাস করতে চাই।’