বিশ্ব কাঁপছে করোনাভাইরাস আতঙ্কে, প্রতিরোধে নেওয়া হচ্ছে নানা পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে ৮০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে ভাইরাসটি। এই তালিকায় আছে প্রতিবেশী ভারতও। সে দেশের রাজধানীতে ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। তবে দেশটির রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে এখনো এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। তাই হয়তো সেখানে আগেভাগেই আরেক আতঙ্ক ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।
আনন্দবাজারের এক খবরে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজ্যটির দেগঙ্গা ব্লক প্রশাসন নিয়েছে অভিনব এক উদ্যোগ। পাঁচ কিলোগ্রাম প্লাস্টিক কিংবা পলিথিন জমা দিলে তারা দিচ্ছে আস্ত একটি ত্রিপল। ডেঙ্গু ঠেকাতে এমনই সতর্কতামূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি আনন্দবাজারের। খবরে বলা হয়েছে, ঘোষণামাত্রই পলিথিন কুড়িয়ে বিডিও অফিসে দিয়ে ত্রিপল সংগ্রহ করতে শুরু করেছে দেগঙ্গার বাসিন্দারা। তিন বছরে দেগঙ্গায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শতাধিক। মজে যাওয়া নর্দমায় পলিথিন, প্লাস্টিক আটকে জমা পানিতে জন্মানো মশার লার্ভা চিন্তা বাড়িয়েছিল ব্লক প্রশাসনের। তার পরেই পাঁচ কেজি প্লাস্টিকের বিনিময়ে ত্রিপল দেওয়া হবে বলে এলাকায় হোর্ডিং, পোস্টার লাগিয়ে প্রচার শুরু হয়। ঘরে ও দোকানের কাজে প্রয়োজনীয় ত্রিপলের জন্য তাই এখন এলাকা থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করছে অনেকেই।
গত বৃহস্পতিবার দেখা যায় ব্লক দপ্তরের সামনে বস্তা ভর্তি পলিথিন জমা দিয়ে ত্রিপল নিচ্ছে এলাকার বাসিন্দারা। তারা জানায়, বর্ষায় ত্রিপলের প্রয়োজন হবে। আবার তারাও চায় যাতে প্লাস্টিকের কারণে এলাকায় জল জমে মশা না জন্মায়। সরকারি তথ্যমতে, ২০১৭ সালে দেগঙ্গায় ডেঙ্গু ও অজানা জ্বরে মৃত্যু হয়েছিল শতাধিক মানুষের। ২০১৮ সালে প্রকোপ কিছুটা কমে। ২০১৯ সালে আবার আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়ায়। মৃত্যুও হয় পাঁচজনের। পরে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যেসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল ভয়াবহ, সেখানে এলাকার নর্দমাগুলো পলিথিনে ভরে বুজে গিয়েছিল। পরিষ্কার জলে জন্মাচ্ছিল মশার লার্ভা। দেগঙ্গার বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, যত্রতত্র ফেলে দেওয়ায় প্লাস্টিক নালায় জমছে। প্রশাসন প্লাস্টিক পরিষ্কার করলেও ফের তা নালায় ফেলা হচ্ছে। নর্দমা বুজে পানি জমে মশা জন্মাচ্ছে। প্রতিটি এলাকা এভাবে প্লাস্টিক জমা দিলেই দূষণ ঠেকানো যাবে। রোগ-ব্যাধিও কমবে।’