বেড়িবাঁধের ব্লক তৈরিতে লবণ বালু ও নিম্নমানের পাথর!

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বেড়িবাঁধের ব্লক তৈরিতে সাগরের লবণাক্ত বালু আর নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছে, কাজের গুণগতমান শতভাগ বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, কুতুবদিয়ার ৭১ পোল্ডারের ৪০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ১৪ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত, সিসি ব্লক ও মাটির কাজের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রায় ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছর মন্ত্রণালয় থেকে টাকা ছাড় দিলেও ঠিকাদার ও কর্র্তৃপক্ষ যোগসাজশে সাগরের লবণ বালি আর নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করে ব্লক তৈরি করা হয়েছে।

আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুচ ছাফার অভিযোগ, পাউবোর বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য তৈরি ব্লকে সাগরের লবণ বালু আর নিম্নমানের পাথর দেওয়া হয়েছে। এসব ব্লক বাঁধে ব্যবহার করতে গিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। লবণ বালু আর নিম্নমানের পাথর ব্যবহার না করার জন্য বলা হলেও পাউবো ও ঠিকাদার তা মানছে না। এ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঈগলরিজ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (বিডি) লিমিটেডের সাইট প্রকৌশলী শাহীন বলেন, ‘কাজের গুণগতমান শতভাগ বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর নিম্নমানের পাথর দিয়ে ব্লক তৈরির অভিযোগ সঠিক নয়।’

বান্দরবান জেলার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাছান বলেন, ‘কুতুবদিয়ার ৭১ পোল্ডারে ভাঙন বাঁধ মেরামত কাজ ৪০ ভাগ শেষ। জুন মাসের আগে প্রাক্কলিত বাকি কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্লক নির্মাণকাজে নিম্নমানের পাথর আর লবণ বালু ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে সত্যতা পাই। পরে এসব ব্যবহার না করার জন্য ঠিকাদারের লোকজনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’