নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে পঞ্চম বিয়ের অনুমতি না দেওয়ায় তাজিনা বেগমকে (২২) তার স্বামী সোহরাব ওরফে তোরাব মোল্লা পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার রাত ১০টার দিকে গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বড় বাগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তানজিনা বেগম গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার দুর্বাটি এলাকার হাবিবুর রহমানের মেয়ে।
ভোলাব তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম জানান, গত ২ মাস আগে হাবিবুর রহমানের তানজিনার সঙ্গে রূপগঞ্জ উপজেলার বড় বাগলা এলাকা মৃত আবুল কাশেম মোল্লার ছেলে সোহরাব ওরফে তোরাব মোল্লার বিয়ে হয়।
সোহরাব তানজিনা বেগমকে বিয়ে করার আগে আরও তিনটি বিয়ে করেন।
তানজিনা বেগমকে বিয়ে করার সময় সোহরাব আগের ৩টি বিয়ে করার বিষয়টি গোপন রাখেন। একাধিক বিয়ে করা সোহরাবের নেশা।
বেশ কয়েকদিন ধরেই সোহরাব পঞ্চম বিয়ে করার অনুমিত দেওয়ার জন্য স্ত্রী তানজিনা বেগমকে চাপ দিতে থাকে। তানজিনা বেগম বিয়ের অনুমতি দিতে অস্বীকার করায় স্বামী সোহরাব বেশ কয়েকবার তাকে মারধর করেন।
গত শনিবার দুপুরে বিয়ের অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোহরাব ও তানজিনার মাঝে বিভিন্ন বাগ বিতণ্ডা হয়। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সোহরাবের ভাবি জোহরার কুপরামর্শে সোহরাব তানজিনাকে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালাতে থাকেন।
একপর্যায়ে সোহরাব তানজিনার মাথা দেয়ালের সঙ্গে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।
পরে সোহরাবের ভাবি জোহরা ফোন দিয়ে তানজিনা আক্তারের বড় বোন তাহমিনাকে জানায় তার ছোট বোন অনেক অসুস্থ তাকে কালীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তানজিনার পরিবারের লোকজন কালীগঞ্জ হাসপাতালে পৌঁছালে ডাক্তার তানজিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য পাঠায়। পরে তানজিনাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় তানজিনা বেগমের বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে স্বামী সোহরাব ও ভাবি জোহরাকে আসামিকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় স্বামী সোহরাব ও ভাবি জোহরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।