বশেমুরবিপ্রবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, শিক্ষকসহ আহত ১৫

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকদের বসার কক্ষ ভাগ করা নিয়ে অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১২ টায় আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের চার তলায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অফিস কক্ষসহ তিনটি শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সুকান্ত কুমার আহত হন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক মাহবুবা উদ্দিন, আরাফাত রহমান, শিক্ষার্থী নীলরঞ্জন, জীবন, সজীব আলী ও এসিসিই বিভাগের শেখ আলিমুন হোসাইন, পপি বিশ্বাসসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

জানা যায়, একটি কক্ষের কিছু অংশে কাঠের বেষ্টনী দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অফিস এবং অপর অংশ এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ হিসেবে বরাদ্দ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সাত দিন আগে কাঠের বেষ্টনী সরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থাই-গ্লাস দিয়ে নতুন বেষ্টনী তৈরি করে। আর এই নতুন বেষ্টনী নিয়েই শুরু হয় দুই বিভাগের উত্তেজনা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রভাষক আরাফাত রহমান বলেন, আমরা যখন আমাদের কক্ষে বসতাম তখন এসিসিই বিভাগের শ্রেণিকক্ষ থেকে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা হতো, যাতে অফিসসহ আমাদের কাজ করতে সমস্যা হতো। তাই আমরা বাধ্য হয়ে থাই গ্লাস দিয়ে একটি বেষ্টনী দিয়েছি যাতে আমাদের কাজে সমস্যা না হয়। কিন্তু আজকে হঠাৎ করে আমাদের শিক্ষকদের বসার কক্ষ আটকে রাখা হয় এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের শ্রেণিকক্ষের জায়গায় নতুন বেষ্টনী দিয়ে কক্ষ সংকুচিত করে ফেলেছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। এতে আমরা শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো বসতে পারি না। সমস্যার কথা জানালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পক্ষ থেকে আমাদের গালিগালাজ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বলেন, আমি ঘটনা সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানি না। দুই পক্ষের লিখিত বক্তব্য পেলে একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।