ফেসবুকে প্রেম, পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে বিয়ে করলেন তরুণী

ফেসবুকেই পরিচয়, সেখানেই প্রেম, অতঃপর বিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই যুগে এমন ঘটনা এখন অহরহ ঘটছে। তবে ভারতের এক ফেসবুক যুগল ঘটালেন ভিন্ন নজির।

দক্ষিণ ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া গ্লিটজ জানায়, কেরালার তরুণীর শাহনার সঙ্গে ফেসবুকে প্রেম হয় প্রণব নামে এক তরুণের। এরপর তারা বিয়েও করেন। সেই বিয়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়ে রাজ্যজুড়ে। কারণ প্রণব হচ্ছে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, হুইল চেয়ারেই জীবন তার।

গত মঙ্গলবার শাহনা-প্রণব জুটির বিয়ে হয়। কীভাবে পরিচয় হলো তাদের? কীভাবে হলো প্রেম?

জানা যায়, ছয় বছর আগে কলেজে পড়ার সময় এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন প্রণব। এতে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তার জীবন হয়ে পড়ে হুইল চেয়ারে বন্দী।

কিন্তু এরপরেও থেমে থাকেননি তিনি। জীবনের লড়াইয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা তার বরাবরের মতো ছিলই। সেগুলো শেয়ার করতেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

অন্যান্য অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষকে উৎসাহ দিতেন তিনি। ইতিবাচক বক্তব্য দিয়ে ভিডিও আপলোড করতেন। শারীরিক নানা বাধা সত্ত্বেও কীভাবে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেসব গল্প বলতেন কেরালার এই যুবক।

তিন মাস আগে প্রণবের এমন একটি ভিডিও ভালো লেগে যায় শাহনার। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেই সংগ্রহ করেন প্রণবের ফোন নম্বর। ফোন দিয়ে তার সঙ্গে কথাও বলেন এই তরুণী। এভাবেই ফেসবুকে ও ফোনে তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলতে থাকতে। তাদের মধ্যে তৈরি হয় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

একপর্যায়ে শাহনা তার মনের কথা খুলে বলেন প্রণবের কাছে। তিনি তার প্রেমে পড়েছেন এবং বিয়ে করতে চান। শুরুতেই দুই পরিবার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে চাচ্ছিলো না। প্রণবের পরিবারও রাজি ছিল না, তাদের অক্ষম ছেলেকে বিয়ে করে জীবন নষ্ট করবে তরতাজা একটি মেয়ে। এদিকে শাহনার পরিবার তো শক্তভাবে বিরোধিতা করে তাদের এই সম্পর্কের।

কিন্তু শাহনার প্রেমের কাছে কোনো বাধাই আর বাধা রইল না। সকল নিষেধাজ্ঞা আর বিরোধিতা ডিঙিয়ে প্রণবের জন্য ঘর ছাড়লেন শাহনা এবং শেষমেশ বিয়েই করেই ছাড়লেন ভালোবাসার মানুষকে।

কেরালার কদুঙ্গালুর মন্দিরে প্রণবের পরিবার, বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিতিতে পরস্পরের গলায় মালা পরান নবদম্পতি। সেই ছবি ফেসবুকেও ভাইরাল হয়ে পড়ে। প্রেমের প্রতি শাহনার এমন নিষ্ঠা প্রশংসিত হয় নেটিজেনদের মধ্যে।