ব্যালকনি কনসার্টে মনোবল খুঁজছে ইতালির অবরুদ্ধ মানুষ

চীনের পর করোনাভাইরাসের নতুন কেন্দ্রস্থল ইউরোপ। সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইতালি। পুরো দেশটিকে কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করা হয়েছে।

কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১২ শ'র বেশি ইতালীয় নাগরিক। সংক্রমিত হয়েছে সাড়ে ১৭ হাজার মানুষের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিনেমা হল, থিয়েটার স্টুডিও, খেলাধুলা, যে কোনো ইভেন্ট সবকিছুই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বন্ধ সব বার, রেস্তোরাঁ, সেলুন, বিউটি পার্লার, দোকানপাট। শুধু নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সুপারমার্কেট, খাবারের দোকান, ওষুধের দোকান খোলা আছে।

নাগরিকেরা কার্যত ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ। শহরগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট, স্টেশনে সুনসান নীরবতা। থেমে গেছে শিশুদের কোলাহল।

তবে আতঙ্কিত মানুষ এর মধ্যেও নিজেদের মধ্যে মনোবল ধরে রেখেছে। জানালা ও ব্যালকনিতে এসে তারা জোর গলায় গাইছেন, নাচছেন এমনকি সাউন্ডবক্সে ছেড়ে দিয়েছেন গান। এ যেন ব্যালকনি কনসার্ট। করোনার ভয়কে জয় করতে নতুন এক উৎসবে মেতেছেন তারা।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, মধ্য ইতালির তুস্কেনি অঞ্চলের শিন শহর থেকে শুরু হয় বেঁচে থাকার এই অনুপ্রেরণা। এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শহরটিতে মানুষ দেশটির একটি জনপ্রিয় লোকসংগীত গাইছে।

এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে আসতেই আরও মানুষ যোগ দেয় এর সঙ্গে। পুরো ইতালি থেকে ভিডিও প্রকাশ হতে শুরু করে টুইটারে। এই মহামারি ভাইরাস থেকে বাঁচতে পরস্পরের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করছেন তারা।

ফ্লোরেন্স, ন্যাপলস, শিন, তুরিন শহরের মানুষ গাইছে-নাচছে জানালা এসে, ব্যালকনিতে বের হয়ে। অনেকে বাঁশি, গিটারসহ নানা ধরনের যন্ত্র বাজাচ্ছেন। জানালা থেকে জানালায় সৃষ্টি হয়েছে সুরের লহর।

একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় কোনো মানুষের চলাচল নেই। গাড়ি পার্কিং করে কোথায় যেন পালিয়ে গেছে সবাই। ল্যাম্পপোস্টের ম্রিয়মান আলো যেন আরও ভূতুড়ে করে তোলেছে পুরো পরিবেশ। এমন দৃশ্যে ভেসে আসছে মানুষের গলা। কোরাস কণ্ঠে জাগিয়ে রাখছেন নিজেদের সাহস সেইসঙ্গে প্রতিবেশীদের মধ্যে সঞ্চার করছেন আত্মবিশ্বাস। 

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাবার সঙ্গে শিশুও ব্যালকনিতে এসে বাজনা বাজাচ্ছে আর গানে গলা মেলাচ্ছে। ব্যালকনি থেকে ব্যালকনিতে, জানালা থেকে জানালায় মানুষ একযোগে সুর তুলছে জনপ্রিয় সব গানের। কেউ গিটার হাতে, কেউ বাঁশি হাতে সাহস ও শক্তি জোগানোর অসাধারণ এক মানবিক ঐক্য গড়ে তোলছেন তারা। 

এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ভিউ হয়েছে লাখ লাখ। আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর সংবাদ শিরোনাম হয়ে উঠেছে ইতালির মানুষের বাঁচার এই উদ্দীপনা।

এর আগে চীনের উহানেও এমন দৃশ্য দেখা যায়। হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহরটি থেকেই করোনাভাইরাসের উৎপত্তি। অঞ্চলটি থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় ও আক্রান্ত হয়।

রীতিমতো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় উহানসহ ওই প্রদেশের কয়েকটি শহর। গোটা চীন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় শহরগুলোকে। মানুষজন ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন জানালা ও ব্যালকনিতে এসে গান গেয়ে মনোবল চাঙা রেখেছিলেন শহরবাসী।