রাজধানীর লালবাগ থানা এলাকার হাজারীবাগ সড়ক। সড়কের পাশেই গণকটুলী হরিজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলে প্রায় দু শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণ দুর্বিষহ করে তুলেছে একটি ডাস্টবিন। কারণ বিদ্যালয়ের মূল দেয়াল ঘেঁষে খোলা আকাশের নিচে রাখা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার ডাস্টবিন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন রহমান, বিদ্যালয়ের জানালা সারা বছর বন্ধ রাখতে হয়। প্রায়ই শিক্ষার্থীরা অসুখে পড়ে। মানসম্মত পরিবেশের অভাবে দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। নতুন শিক্ষকরা স্কুলে বেশি দিন চাকরিতে থাকাতে চায় না।
তিনি আরো বলেন, স্কুলের দেয়ালের পাশেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় প্রতিনিয়ত। দুর্গন্ধে ক্লাস করতে হয় দরজা জানালা বন্ধ করে। চারদিকে ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ। একাডেমির অফিস, নিচতলা, দ্বিতীয় তলায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় এক দোকানি বলেন, ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনার কারণে অল্প বৃষ্টি হলেই ড্রেন বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় পানি জমে ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, আসা-যাওয়ার সময় ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। শ্রেণিকক্ষে পাঠ দানকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
স্কুল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একাধিকবার স্কুল শিক্ষকরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, লালবাগ থানা শিক্ষা অফিস এবং স্থানীয় কাউন্সিলর বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে জানালেও ডাস্টবিন সরানোর হয়নি ।
ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলেয়া ফেরদৌসী শিখা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ময়লার ডাস্টবিন স্কুলের কাছে রাখা কখনোই কাম্য নয়। আমরা আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাস্টবিন সরানোর বিষয়ে জানতে লালবাগ থানা শিক্ষা অফিসার মোসা. শারমিন খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডাস্টবিন সরানোর বিষয়ে আমরা সিটি করপোরেশনে কয়েকবার জানিয়েছি, চিঠি দিয়েছি। সিটি করপোরেশন আন্তরিক হলে এ সমস্যার সমাধান হতো।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সেলর কাজী তরিকুল ইসলাম সজীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে কয়েকবার সিটি করপোরেশনে জানিয়েছি। আমরা মানববন্ধন করেছি। কলোনিতে যারা থাকে তারা চায় না ডাস্টবিন সরানো হোক।
অঞ্চল তিনের সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (সিও) মো. আজগর বলেন, ডাস্টবিন সরানোর বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। ময়লা রাখার জন্য নির্ধারিত স্থান করার চেষ্টা চলছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩ এর পরিচালক (সিআই) সানী লাল বলেন, এ কলোনিতে শহরের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা (মেথর) থাকেন। কলোনিবাসী পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ময়লা না দিয়ে নিজেরাই ফেলেন। আমরা ময়লার ডাস্টবিন স্কুলের কাছ থেকে সরিয়েও ছিলাম। তারপর তারা রাস্তায় ময়লা ফেলতে থাকে। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়ে আবারো স্কুলের কাছে ডাস্টবিন বসানো হয়েছে।