আমার বাবার কাছে আমি লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী: মিলা

বিয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগে সংগীত শিল্পী মিলার সাবেক স্বামী সানজারির করা মামলায় গত ১১ মার্চ মিলা ও তার বাবাকে আদালতে তলব করা হয়। পরে মিলার পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়।

জানা যায়, বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্র বলেছে, এই মামলায় মিলা ও তার বাবা শহীদুল ইসলাম বুধবার ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস।

এদিকে আদালতের কাঠগড়ায় বাবাকে দেখে কেঁদেছেন বলে জানিয়েছেন মিলা। বাবার কাছে লজ্জিত ও ক্ষমা প্রার্থী উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি পোস্টও দিয়েছেন। সেই পোস্টেই মিলা লিখেছেন কবিতাও।

মিলা তার পোস্টে লিখেন, ‘শুধুমাত্র আমাকে বুক ফুলিয়ে জঘন্য নোংরা ভাষায় মিথ্যা অপবাদে ভরা মামলার লাইনগুলো দিয়ে পত্রিকাগুলোতে আমার নামের ওপর সুযোগ নেওয়া একটি অন্যায়কারী ছেলে আমাকে সামাজিক ভাবে হেনস্তা করে যাচ্ছে। চাপ প্রয়োগ করে নারী নির্যাতনের মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য আমাকে কত মামলাই দিচ্ছে।’’

তিনি আরও লিখেন, ‘মনের অনেক কথাই লেখা যায় না, বলা যায় না। কারণ মিথ্যে মামলার হুমকি আছে। আইসিটি অ্যাক্ট-এ মামলা দেওয়া হয়, আমার সত্য বলার কারণে। কিন্তু কতটা চালাক হলে প্রতারণার ভিত্তিহীন মামলায় লিখিতভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও লাঞ্ছিত করা হচ্ছে খবরের কাগজ গুলোতে আমাকে।’

কবিতা লেখার বিষয়ে মিলা পোস্টে লিখেন, ‘কবিতার কথাগুলো এমনই এক অসাধারণ মাধ্যম, যা দিয়ে অনেক কিছুই বলা যায় অকপটে। প্রচণ্ড ক্ষোভ, যন্ত্রণা আর দ্রোহ নিয়ে কবিতার কিছু লাইন লিখেছি। এখানেই আমার সব কথা বলা হলো: আমার বাবার কাছে আমি লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী’।

মিলা ‘লজ্জিত হও’ শিরোনামের কবিতাটি তার বাবাকে উৎসর্গ করেছেন। মিলার কবিতার কয়েকটি চরণ তুলে ধরা হলো- ‘মিলা নামের ওপর বেঁচে থাকা জীব/একটু লজ্জা করো/যদি হয়ে থাকো মায়ের পেটের দীপ/সংবাদ পাঠে ব্যবহার করো আমার নাম/ভুলে যেওনা আমার পরেই তারা/সংযুক্ত করে তোমার নাম।/বাবার মেয়ে আমি/আমিই বাবার মান/আরে ও পরশ্রী কাতর রাবণ/তুমি কী বুঝবে?/একটি বাবার মেয়ের সম্মান।’’

প্রসঙ্গত, মিলার সাবেক স্বামী এস এম পারভেজ সানজারী গত বছর ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে ‘বিয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগে মামলা করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি পল্লবী থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। পল্লবী থানার এসআই মো. জহিরুল ইসলাম তদন্তের পর মিলা ও তার বাবার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়েই বুধবার মিলা ও তার বাবাকে তলব করলে তারা জামিনের আবেদন করেন। পরে তাদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের ১২ মে মিলাকে তিনি বিয়ে করেন। বিয়ের পর বুঝতে পারেন, মিলা বদমেজাজি, অহংকারী, নেশাগ্রস্ত ও ‘অনৈতিক চরিত্রের’ অধিকারী। এ কারণে তাদের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। সেই সুযোগে মিলা ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর যৌতুক আইনে বাদীর বিরুদ্ধে একটি ‘মিথ্যা’ মামলা করেন। ওই মামলায় বাদী গ্রেপ্তার হয়ে জামিন পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি মিলাকে তালাক দেন। তালাক হওয়ার পর মিলা বাদীর বাসায় ‘অনধিকার প্রবেশ করে’ একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল নিয়ে যান। এ ছাড়া বাদীর মোটরবাইকে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন করে বাদীকে উত্ত্যক্ত ও অপমান করতে থাকেন। পরে বাদীকে হত্যার জন্য ২০১৯ সালের ২ জুন অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন।