গৃহকর্মীর বেশে চুরি, দুই দম্পতিসহ গ্রেপ্তার ৫

যেসব বাসায় বয়স্ক মহিলা-পুরুষ ও শিশু রয়েছেÑ সেসব বাসাকে টার্গেট করে গৃহকর্মীর কাজ নিচ্ছিল একটি চক্র। কাজের ফাঁকে সুযোগ বুঝে উচ্চমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাবারে মিশিয়ে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নেওয়াই ছিল তাদের পেশা। এমন এক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) ওয়ারী বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত শনিবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জুরাইন ও তাঁতীবাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো খোরশেদ আলম ওরফে মোরশেদ (৩৫) ও তার স্ত্রী বিউটি বেগম ওরফে ময়না ওরফে জান্নাতের মা (৩৩), আসাদুল ইসলাম (৩৬) ও তার স্ত্রী রিপনা বেগম (৩৫) ও ফারুক আহম্মেদ (৬২)। তাদের কাছ থেকে সোনার একজোড়া চুড়ি, একটি লকেটসহ চেইন, একজোড়া কানের দুল, একটি গলার হার, একটি নাকফুল, চেতনানাশক ওষুধ ও ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা থেকে রেহাই পেতে গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের ন্যাশনাল আইডিসহ বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত বছর ২ নভেম্বর রাজধানীর ধানম-ির ২৮ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার বাসায় গৃহকর্মী সেজে যাওয়া এক নারী গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগম (৬৫) ও তার কাজের মেয়ে দিতিকে (১৮) গলা কেটে হত্যা করে।

গতকাল রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইফতেখার আহমেদ বলেন, গে-ারিয়ায় মোছা. ফয়জুন্নেছা নামে এক গৃহবধূ তার বাসার দারোয়ানের মাধ্যমে গত ৯ মার্চ গৃহকর্মী হিসেবে ময়না নামে একজনকে নিয়োগ দেন। পরদিনই দুপুরে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে সবাইকে অজ্ঞান করে সে। এরপর ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ২৫ ভরি সোনা নিয়ে পালিয়ে যায়।

ইফতেখার আহমেদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, খোরশেদ আলম সুকৌশলে তার স্ত্রী ময়নাকে ফয়জুন্নেছার বাসার গৃহকর্মী হিসেবে পাঠায়। আসাদুল ও তার স্ত্রী রিপনা বেগম চুরির উদ্দেশ্যে ময়নাকে চেতনানাশক ওষুধ সরবরাহ করে।