কুড়িগ্রামে সাংবাদিক পেটানো সেই নাজিমসহ ৩ কর্মকর্তা ওএসডি

কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে নির্যাতনের ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী জেলা প্রশাসনের আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার) নাজিম উদ্দীনকে ওএসডি করা হয়েছে। তার সঙ্গে সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এ এস এম রাহাতুল ইসলামকেও ওএসডি করা হয়।

রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রবিবার জামিনে মুক্ত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফুল অভিযোগ করেন, খোদ জেলা প্রশাসনের আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার, রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ওপর চালানো হয় নির্যাতন। তিনি নিজ হাতে পেটান। আর এনকাউন্টার দেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘কলেমা পড়ে ফেল, আজ তোর জীবন শেষ।’

গত শুক্রবার মধ্যরাতে আরিফুলকে বাড়ি থেকে তুলে এনে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মাদকবিরোধী অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছে ৪৫০ গ্রাম দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। তবে আরিফুলের স্ত্রী দাবি করেন, পুরো ঘটনাই সাজানো।

এ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল সকালে জামিন পাওয়ার পর দুপুর ১২টায় কারাগার থেকে মুক্তি পান বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল। পরে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আরিফুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাত ১২টার পরপরই হঠাৎ করে ঘরের দরজা ভেঙে তারা আমার ঘরে ঢোকে। ঢুকেই এখানে যিনি আরডিসি আছেন নাজিম উদ্দিন, তিনি আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। বাড়িতে ঢুকেই উনি আমাকে শুয়োরের বাচ্চা বলে গালিগালাজ করেন।

এরপর আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। এ সময় আমি বারবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমার দোষ কী, আমার অপরাধ কী? আমার কোনো অপরাধ থাকলে আমাকে বলেন, আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমার অপরাধটা কী বলেন? তারা আমার কোনো কথা না শুনে আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। আর সে সময় তিনি (নাজিম উদ্দিন) বলতে থাকেন, ‘খুব বড় সাংবাদিক হয়ে গেছিস, তোর সাংবাদিকতা আমি ছোটাব, ডিসির বিরুদ্ধে লিখিস!’