ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রথম করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি- সেরে ওঠার পর নিজ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্যদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করেন। এই রোগের চিকিৎসা বেশির ভাগ রোগীর জন্য খুবই সাধারণ বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এনডিটিভি জানায়, ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী ইতিপূর্বে বিদেশ ভ্রমণ করেন। দেশে ফেরার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপরে তাকে দিল্লির সাফদারজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেরে ওঠার পর সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার তেমন কিছু নেই। এই রোগের উপসর্গ মৌসুমি ফ্লু (সর্দি-কাশির) মতোই। স্বাস্থ্যবান হলে ভয়ের কারণ আরও কম। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে এমন অবস্থায় সেরে ওঠার সম্ভাবনা খুবই বেশি। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন করোনার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আইসোলেশন ওয়ার্ড নিয়ে জনভীতি দূর করতে তিনি বলেন, আইসোলেশন ওয়ার্ড এমন নয় যে সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছে না এবং জেলখানার মতো দুই হাত বাই দুই হাত পরিধির কক্ষে আপনাকে অবস্থান করতে হবে। বরং সেখানকার পরিবেশ যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর। আমাদের চিকিৎসকেরাও যথেষ্ট আন্তরিক। তারা পৃথিবীর অন্যতম সেরা চিকিৎসক।
তিসি বলেন, সাফদারজং হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে সেবা ব্যবস্থা খুবই উন্নত। ভারত সরকার একে খুবই গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাজিয়েছে। এমনকি অনেক বেসরকারি হাসপাতালেও আমি সেখানকার মতো উন্নত-সুযোগ সুবিধা দেখিনি।
এদিকে ছাড়া পাওয়ার পর দিল্লির এই বাসিন্দাকে নিজ বাড়িতে আরও ১৪দিন 'জনবিচ্ছিন্ন' হয়ে থাকতে হবে। এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে করা পরীক্ষায় তার দেহে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে।
এরপর গত রোববার নাগাদ ১৪ দিন ধরে তিনি সাফদারজং হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই সময়ের মাঝেই প্রচলিত চিকিৎসার তিনি ভাইরাস থেকে মাধ্যমে মুক্তি লাভ করেন।
দিল্লি রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিসহ আরও সাতজনের দেহে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। এদের মাঝে একজন মারা গেছেন। আর আরও দুইজন ব্যক্তি চিকিৎসার পর করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
গত রোববার নাগাদ ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১১০ জনে উন্নীত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তির মাঝে সংক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে মহারাষ্ট্র এবং কেরালায়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান নগরীতে প্রথম মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে কোভিড-১৯ নামের করোনা গোত্রের নতুন ভাইরাসটি। চীনে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করলেও বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। বর্তমানে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে।
এই সময় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৮৬৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৪৯২ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬৬৯ জনের।
করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৫৯৮ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। চিকিৎসা চলছে ৮৫ হাজার ৭৭৬ জনের।
স্বভাবতই ভাইরাসটি নিয়ে জনমনে আছে ব্যাপক ভীতি, আছে চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সংশয়।