পালিয়ে যাওয়া করোনা আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে হাতে ‘স্ট্যাম্প’!

শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেওয়া ব্যক্তিদের আপাতত হোম কোয়ারান্টাইনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের মহারাষ্ট্র সরকার। পাশাপাশি ওই ব্যক্তিদের আলাদা করে চিহ্নিত করে রাখতে বাঁ হাতে একটি বিশেষ ‘স্ট্যাম্প’ দেওয়ার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

এনডিটিভি জানায়, মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপ এই ঘোষণা দিয়েছেন।

ভারতের মধ্যে এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রেই। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। এরপর করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত রুখতে আক্রান্তদের চিহ্নিত করে রাখার সিদ্ধান্ত নিল মহারাষ্ট্র সরকার। কেননা গত কয়েক দিনে প্রায় ৭ জন করোনা লক্ষণ যুক্ত রোগী চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে পালিয়ে গেছে।

“কেউ যদি কভিড-নাইনটিনে আক্রান্ত হন তবে সেটা তার  অপরাধ নয়। তাদের অবশ্যই যথাযথ চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। রাজ্যের জনগণের স্বার্থেই মহামারি নিরোধক আইন তৈরি করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনকে অবশ্যই এই রোগটি সম্পর্কে সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”, বলেন উদ্ধব ঠাকরে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার পর ভোটারদের হাতে যে কালি লাগানো হয়, ওই কালি দিয়েই করোনা লক্ষণ যুক্ত ব্যক্তিদের বাঁ হাতে একটি স্ট্যাম্প করে দেওয়া হবে। যাতে সহজেই তাকে চিহ্নিত করা যায়। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোনো ব্যক্তিকে নিজের বাড়িতে কোয়ারান্টাইন বা পৃথকীকরণ অবস্থায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা অমান্য করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে অন্যান্য মানুষজনের সঙ্গে মিশছেন। এর ফলে আরও বেশি করে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে।

মহারাষ্ট্র সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ করোনা সংক্রমণের লক্ষণ শরীরে থাকা সত্ত্বেও ঘর থেকে বেরিয়ে সাধারণের সঙ্গে মেলামেশা করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মহারাষ্ট্রের আসন্ন সমস্ত স্থানীয় ও পুর নির্বাচন আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, শহর ও গ্রামাঞ্চলের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রুখতে সতর্কতা স্বরূপই এই ব্যবস্থা।

এদিকে মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত আরেকজন মারা গেছে। এই নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩।