করোনা উপসর্গ নিয়ে আনসারের মৃত্যুর পর বিসিসি-তে আতঙ্ক

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) উপসর্গ নিয়ে এক আনসার সদস্যের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে (বিসিসি) আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিবিসি বাংলা জানায়, সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ছুটি নিয়ে রংপুরের বাড়িতে যাওয়ার পর গত ১১ মার্চ ওই আনসার সদস্য মারা যান।

এ ঘটনায় উদ্বেগ সম্বলিত একটি চিঠির সূত্র ধরে কম্পিউটার কাউন্সিলের অন্য আনসার সদস্যদেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

গত রবিবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ছুটি নিয়ে রংপুরের বাড়িতে যাওয়ার পর গত ১১ মার্চ ওই আনসার সদস্য মারা যান।

তার মৃত্যুর পরদিনই আরেক আনসার সদস্য একই উপসর্গের কারণে ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

এ ঘটনার পরই উদ্বিগ্ন কাউন্সিল এই চিঠি লিখে। চিঠিটি ঢাকার জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জ ও রংপুরের সিভিল সার্জন এবং আইইডিসিআর পরিচালকে পাঠানো হয়।

আইসিটি টাওয়ারের ওই কাউন্সিল কার্যালয়ে প্রায়ই যাতায়াত করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার বড় ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবও তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম এখান থেকেই পরিচালনা করেন।

এছাড়া বিভিন্ন সংস্থা ও প্রকল্পের প্রায় ৩০টি অফিস এই টাওয়ারে অবস্থিত। প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার মানুষ সেখানে যাতায়াত করে।

করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করায় বিসিসি-তে কর্মরত আনসার সদস্যদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।

প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, আনসার সদস্যের মৃত্যু এবং তার উপসর্গের কথা জানতে পেরে তিনি নিজেই এ চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অবশ্য ওই আনসার সদস্যের হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানতে পেরেছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু তার সঙ্গীরা বলেছেন যে, তার সর্দি-কাশি ছিল। করোনাভাইরাস যেহেতু চলছে তাই তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা লুকানোর কিছু নয়, এটাকে প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করতে প্রস্তুত হওয়ার জন্যই সতর্কতার অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দিয়েছিলাম।’

এদিকে সর্বশেষ শনাক্ত দুজনসহ দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য আক্রান্ত প্রথম তিনজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।