তাবলীগের জমায়েত থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে মালয়েশিয়ায়

তাবলীগ জামাতের চারদিন ব্যাপী একটি অনুষ্ঠান থেকে মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়ায় আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জমায়েতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি সূত্রে বিবিসি বাংলা জানায়, গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে চলতি মাসের এক তারিখ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী ওই অনুষ্ঠান হয়েছিল।

সেখানে মালয়েশিয়ার স্থানীয় মুসল্লি থেকে শুরু থেকে বাংলাদেশ, ব্রুনেই, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।

প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে তাবলীগ জামাতের বেশ কয়েকজন সদস্য ওই জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন।

ওই জমায়েতে অংশ নেয়ার পরপরই মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কয়েকজন নাগরিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। এরপর দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সমাবেশ এড়িয়ে চলতে জনগণকে সতর্ক করে দেয়।

গত এক সপ্তাহের মাথায় মালয়েশিয়ায় নতুন করে ১৯০ জন ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তাদের বেশির ভাগই ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক নূর হিশাম আবদুল্লাহ জানান, তাদের দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৪২৮ জনের মধ্যে ২৪৩ জন শ্রী পেটালিং মসজিদে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।

এমন অবস্থায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মালয়েশিয়া বড় ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ জন্য তিনি সবাইকে জনসমাবেশ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।

এদিকে করোনাভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে মালয়েশিয়ার পার্লিসে জুমার নামাজ স্থগিত ঘোষণা করার পাশাপাশি ধর্মীয় মাহফিলের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার তাবলীগ জামাতের ওই সমাবেশে প্রায় ২০ হাজার মানুষের জমায়েত হয়। এর মধ্যে ৫০০ জনই ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

শনিবার ব্রুনেইয়ে নতুন করে ১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে দেশটিতে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে।

তাদের অনেকেই মালয়েশিয়ার ওই জমায়েতে ছিলেন বলে জানা গেছে। সিঙ্গাপুরের আক্রান্ত কয়েকজন নাগরিকও ওই জমায়েতে ছিলেন বলে বলা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন মুসলিম দেশে ধর্মীয় জমায়েত থেকে শুরু করে সব ধরণের জনসমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও বাংলাদেশে এরকম জমায়েতকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন না তাবলীগ জামাতের সদস্যরা।

বাংলাদেশ তাবলীগ জামাতের জ্যেষ্ঠ সদস্য মাহফুজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ধর্মীয় সমাবেশ এড়িয়ে চলার মতো কোন পরিস্থিতি বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়নি। এদেশে ভাইরাস সেভাবে ছড়ায়নি।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার ওই জমায়েত থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে বলে যে সন্দেহ করা হচ্ছে, তার মানে এই নয় যে অন্য সব জমায়েত থেকেও এমনটা হবে।