কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠান বর্জন করে ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ না মেনে মাদ্রাসা খোলা রেখে পাঠদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি মদিনাতুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার নির্দেশ না মেনে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান করাচ্ছিলেন। মাদ্রাসার জনৈক শিক্ষকের কাছ থেকে ফোন পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী সুমন ও নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম খান।
চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তাদের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রচনা ও করোনা ভাইরাস এর সতর্কতা নিয়ে নির্দেশনামূলক কাগজ তুলে দেন।
সরেজমিনে গিয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণী কক্ষে ছেলে মেয়েদের বইসহ বসে থাকতে দেখা যায়। ষষ্ঠ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, আমাদের মাদ্রাসা বন্ধ দেয়নি। আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস সম্পর্কে কিছুই জানে না তারা। অন্যান্য দিনের মতোই ক্লাস নিয়েছে।
অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম দাবি করেন, মুজিববর্ষ নিয়ে আলোচনার জন্য মাদ্রাসা খোলা রেখেছি। বই নিয়ে শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে ক্লাসে বসে রয়েছে জানতে চাইলে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, সরকার ১৮ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, তাই কাল থেকে মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম খান বলেন, মাদ্রাসায় ক্লাস চলছে এমন খবর পেয়ে এসে সত্যতা পেয়েছি। আমি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে জানিয়েছি। তারা লিখিত রিপোর্ট চেয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদ্যাপনের দিনে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। তিনি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবিলায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার সরকারি ছুটি রয়েছে। তবে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে প্রত্যেকটি স্কুল প্রাঙ্গণে ১০০টি গাছ লাগানোর কর্মসূচি আছে। প্রধান শিক্ষকরা কোনো জমায়েত ছাড়াই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।