লা লিগার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে করোনাভাইরাসে পজিটিভ হয়েছিলেন ভ্যালেন্সিয়ার আর্জেন্টাইন ফুটবলার এজিকেল গারাই। ক্লাব জানিয়েছিল গারাইসহ তাদের মোট ৫ জন করোনায় আক্রান্ত। এবার তারা জানাল আরও ভয়াবহ তথ্য। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় স্প্যানিশ ক্লাবটির ৩৫ শতাংশ খেলোয়াড় ও স্টাফের শরীরে কভিড-১৯’র উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
ভ্যালেন্সিয়া গত মাসে ইতালির মিলানে গিয়েছিল আতালান্তার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে। ভ্যালেন্সিয়া জানায়, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটির পর ক্লাবের কঠোর নিয়মকানুন পালন করার পরও...স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার সবশেষ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে ম্যাচ খেলায় প্রায় ৩৫ শতাংশের করোনাভাইরাস টেস্ট পজেটিভ আসতে পারে।’ করোনার যে লক্ষণ তা সবার ক্ষেত্রে বোঝা যাচ্ছিল না। তাই প্রথমে করোনা আক্রান্ত ৫ জনের কথা জানিয়েছিল ভ্যালেন্সিয়া কর্তৃপক্ষ। ‘সবার ক্ষেত্রেই লক্ষণগুলো বোঝা যাচ্ছিল না। তারা বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। ডাক্তারি পরামর্শ নিচ্ছিলেন। সূচি অনুযায়ী তারা তাদের অনুশীলন পরিকল্পনাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।’
করোনায় আক্রান্ত কোচ : ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লামেঙ্গোর পর্তুগিজ কোচ জর্জ জেসুস করোনায় আক্রান্তা হয়েছেন। রিও ডি জেনেরিওতে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার জন্য। ৬৫ বছরের জেসুস নিজেই ইন্সটাগ্রামে ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে করোনা পরীক্ষার ফলাফল জানান। তিনি বলেন, ‘এটি সত্যি আমার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ। তবে এটাও সত্য যে আমি ভালো অনুভব করছি। এক মাস, এক বছর, দুই, তিন বছর ধরে যেমন লাগছিল আজও তেমনই অনুভব হচ্ছে। আমার কোনো লক্ষণ দেখা দেয়নি কিন্তু পরীক্ষায় ফল পজিটিভ এসেছে। আমি কোয়ারেন্টাইনে যাচ্ছি, আশা করি এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে ঈশ্বরের ইচ্ছায় আমি আবার স্বাভাবিক হব।’ তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রথম পরীক্ষার ফলাফলকে দুর্বল বলেছেন। তারা দ্বিতীয় পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। ১ সপ্তাহের জন্য ফ্লামেঙ্গো তাদের সব ধরনের ট্রেনিং স্থগিত করেছে। শনিবার রিও স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলার পর ব্রাজিলে ফুটবল বন্ধের আবেদন করেছিলেন জেসুস। ব্রাজিলের লিগ বন্ধ থাকলেও চলছিল স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে সোমবার থেকে তা ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়।
স্প্যানিশ কোচের মৃত্যু : ইচ্ছে ছিল কোচ হয়েই একদিন বিশ্ব জয় করবেন ফ্রানসিসকো গার্সিয়া। কিন্তু করোনাভাইরাস কেড়ে নিল তার প্রাণ। মাত্র ২১ বছর বয়সেই থেমে গেছে প্রতিভাবান এই কোচের। ফুটবল খেলোয়াড় ও কোচ করোনা আক্রান্ত হলেও কোনো মৃত্যু সংবাদ ছিল না। এই প্রথম ফুটবল সংশ্লিষ্ট কেউ করোনাভাইরাসে মারা গেছেন। গার্সিয়া স্পেনের মালাগার অ্যাতলেতিকো পোর্তাদা আলতার কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন কদিন আগেই। গিয়ে জানতে পারেন করোনার সঙ্গে দুরারোগ্য লিউকেমিয়া রোগেও আক্রান্ত তিনি। বয়স কম হওয়ার সবাই ধরে নিয়েছিলেন লড়াই করে টিকে যাবেন গার্সিয়া। কিন্তু লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে জিততে পারেননি গার্সিয়া। গার্সিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ক্লাব সভাপতি পেপ বুয়েনো। বলেন, ‘ফ্রানসিসকো অসাধারণ একজন ছেলে এবং অত্যন্ত প্রতিভাবান কোচ ছিলেন। আমরা এখনো স্তম্ভিত। হাসপাতাল থেকে ৭টার দিকে আমাকে ফোন করে বলা হয়, তার অবস্থা স্থিতিশীল। তবে তার এক ঘণ্টা পড়েই আমরা এখনো বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছি না।’