পুঁজিবাজারে আজ লেনদেন নাও হতে পারে

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বৃহস্পতিবারের লেনদেন বন্ধ থাকতে পারে। সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরুর কথা থাকলেও এক্সচেঞ্জ এক ঘণ্টা পেছানোর কথা জানায়। কিন্তু সাড়ে ১১টায়ও লেনদেন শুরু করা যায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে দুপুর ১টায় শুরুর কথা জানালেও হবে কিনা নিশ্চিত করতে পারেনি। মূলত টানা দরপতনের প্রেক্ষিতে লেনদেন নিয়ে এই আশঙ্কা শুরু হয়েছে।

বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. খায়রুল হোসেনের বৈঠক হয়। সেখানে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। অব্যাহত দরপতনের প্রেক্ষিতে লেনদেন চালুর বিষয়টিও উঠে আসে।

এরপর বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ে লেনদেন চালুর কথা থাকলেও তা হয়নি।

এসইসি সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের সার্কিট ব্রেকারের (সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সীমা) সীমা কমছে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দর কমানোর সার্কিট ব্রেকারের সীমা কমছে তবে বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আগের সীমা বহাল থাকছে। সীমা কমানোর বিষয়ে সংযুক্তির কারণেই আজ লেনদেন না হতে পারে।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন, এতে নিয়মিত বড় দর পতন হচ্ছে পুঁজিবাজারে। এতে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নেমে এসেছে সাত বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছিল ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

সে হিসেবে লেনদেন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলার কথা। আগে লেনদেনের শেষ সময় ছিল দুপুর আড়াইটা।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে প্যানিক সেলের কারণে কয়েক দিনের মতো বুধবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা হওয়া ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ সিকিউরিটিজ দর হারিয়েছে। এতে এদিন ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকটি ১৬৮ পয়েন্ট হারিয়েছে। ফলে গত চার কার্যদিবসের টানা পতনে ডিএসইর সূচকটি ৬২৭ পয়েন্ট বা প্রায় ১৫ শতাংশ কমল। গতকালের পতন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৬০৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা গত সাত বছরে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ মে সূচকটি ৩৫৫৯ পয়েন্টে নেমেছিল।