শাহজাদপুর ও এনায়েতপুর সিএনজি শ্রমিকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে শুক্রবার বিকেলে শালিশ-বৈঠক চলাকালে শাহজাদপুর ও এনায়েতপুর সিএনজিচালক ও শ্রমিকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। যাদের ১৪ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বৈঠকের আয়োজক অ্যাভোকেট মোক্তার হোসেন জানান, সিরিয়াল মেইনটেইন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ১ মাস ১৭ দিন ধরে শাহজাদপুর ও এনায়েতপুরের মধ্যে সিএনজি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে শাহজাদপুর, বেলকুচি ও চৌহালি উপজেলার প্রায় ১ লাখ তাঁত মালিক ব্যবসায়ীর শাহজাদপুর, এনায়েতপুর ও সোহাগপুর কাপড়ের হাটে শাড়ি-লুঙ্গীর বড় বড় গাইট নিয়ে যাতায়াতে ও এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রুগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ ছাড়া শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী, শাহজাদপুর সরকারি কলেজ, বেলকুচি ডিগ্রি কলেজ, খামারগ্রাম ডিগ্রি কলেজসহ তিন উপজেলার ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী দুর্ভোগে পড়ে।

এ সমস্যা সমাধানে শুক্রবার খুকনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের হলরুমে স্থানীয় এমপি মমিন মন্ডলের প্রতিনিধি, খুকনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁন, সোদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম সিরাজ, শাহজাদপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী সহ শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, বেলকুচি ও এনায়েতপুরের সিএনজি ও মোটর মালিক-শ্রমিক নের্তৃবৃন্দর উপস্থিতিতে আপস মিমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শেষের দিকে একজনের উসকানিমূলক বক্তব্যে দুপক্ষের শ্রমিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও হামলা সংঘর্ষে পরিণত হয়। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়।

আহতদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন মো. মঞ্জু খান, মির্জা, আব্দুল্লাহ, কামাল খান, ফরহাস কাজী, মোহসীন আলী, টনি বাবু,  আব্দুর রশিদ, আলী রেজা, অপু ও মোক্তার হোসেন। খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে এনায়েতপুর সিএনজি শ্রমিক নেতা মো. কামাল খান জানান, এ হামলা সংঘর্ষে তাদের ১০/১৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে রঞ্জু খানের অবস্থা আশংকাজনক। তাকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি।

এ বিষয়ে খুকনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁন বলেন, বিষয়টি প্রায় মিমাংসার পর্যায়ে চলে এসেছিল। একজন শ্রমিক উস্কানিমূলক কথা বলায় প্রতিপক্ষের শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আমরা মিমাংসার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর সিএনজি চালক-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও শাহজাদপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী জানান, উভয়পক্ষের শ্রমিকরা উত্তেজনায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অচিরেই আবারও বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, এ ঘটনায় উভয়পক্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করতে আসে নাই। এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।