করোনাভাইরাসে স্থবির হয়ে গেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। শূন্য ভেন্যুগুলো যেন মৃত্যুপুরী। ব্যতিক্রম কেবল আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও এই ভেন্যুতে কঠোর সতর্কতার মধ্যেও চলছে আরচারি ক্যাম্প। ২২ আরচারসহ মোট ৩৪ জনকে রীতিমতো হোম কোয়ারেন্টাইনের মতো করেই রাখা হয়েছে সেই ক্যাম্পে। জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের তত্ত্বাবধানে অন্য সময়ের মতো এখনো চলছে অনুশীলন। মূলত ২০২০ টোকিও অলিম্পিককে সামনে রেখে ক্যাম্প চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশন। আরচার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। ক্যাম্পে বহিরাগত কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আরচারদের বাইরে বের হওয়ারও কোনো অনুমতি নেই। জরুরি প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাউকে কাউকে বের হতে হলেও তাদের নতুন করে ক্যাম্পে প্রবেশ করার জন্য নিতে হচ্ছে নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল বলেন, ‘ক্যাম্প চললেও পুরো ভেন্যুকে ঘিরে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। বাঁশ দিয়ে বেষ্টনী করে দেওয়া হয়েছে যাতে বাইরের কেউ ভেন্যুতে প্রবেশ করতে না পারে। আমরা খুব সূক্ষ্মভাবে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি এবং ২৪ ঘণ্টা দেখভালের মধ্যে রেখেছি। আশা করছি আমাদের ক্যাম্পে আঘাত হানতে পারবে না করোনাভাইরাস।’
ক্রিকেট বাদে দেশের সম্ভাবনাময় খেলাগুলোর ওপরের দিকে অবস্থান থাকবে আরচারির। গত বছর ১৩তম এসএ গেমসে আরচারি ডিসিপ্লিনের ১০টি ইভেন্টের সবক’টি স্বর্ণ জিতে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ রেখেছেন দেশের তীরন্দাজরা। তবে যে কারণে ক্যাম্পটা করোনাভীতির মধ্যেও চলছে সেটি হচ্ছে অলিম্পিক। এর মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে টোকিও অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন তীরন্দাজ রোমান সানা। নেদারল্যান্ডসে বিশ^ আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতে এই যোগ্যতা অর্জন করেন খুলনার ছেলে রোমান। এছাড়া ফেডারেশন আশায় আছে রিকার্ভ একক ছাড়াও রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার। আগামী জুনে জার্মানিতে দলগত ইভেন্টে কোটা প্লেসের একটা সুযোগ আছে বাংলাদেশের আরচারদের সামনে। সেখানে ভালো করতে পারলে রোমানকে হয়তো দলগত ইভেন্টেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যাবে টোকিওতে। জার্মান কোচ তাই চাননি চলমান অনুশীলনে কোনো ছেদ টানতে। রোমান সানাও স্বেচ্ছায় বন্দিদশাটা মেনে নিয়েছেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, ‘সারাক্ষণ ক্যাম্পে থাকতে কার ভালো লাগে বলেন? কিন্তু কিছু তো করার নেই। এ অবস্থায় ক্যাম্প ছুটি দিয়ে দিলে অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় চলে যাবে। তাতে ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কাটা বাড়বে। তাই ক্যাম্প চলমান রাখা হয়েছে। এখানে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ জুনে জার্মানিতে কোটা প্লেসের জন্য বিশ^কাপ আসরে দলগত ইভেন্টে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ^াসী রোমান, ‘আমাদের প্রস্তুতি থেমে নেই। আমরা জোর চেষ্টা চালাব যাতে দলগত ইভেন্টেও কোটা পাই।’
ক্যাম্পের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সহকারী কোচ জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি ক্যাম্পে। আরচারদের থাকার ঘরগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। যখনই তারা অনুশীলনের জন্য মাঠে যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হচ্ছে। ফেরার সময়ও সেটা করা হচ্ছে।’ রোমানরা অলিম্পিকে চোখ রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও অলিম্পিক নির্ধারিত সময়ে টোকিওতে হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে যথেষ্ট।
করোনাভাইরাসে ভয়াবহরকম সংক্রমিত হওয়া দেশগুলোর একটি জাপান। তাছাড়া এখন বিশ্বের ১৪২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। এ অবস্থায় অলিম্পিক এবং একে সামনে রেখে বিভিন্ন কোটা প্লেসের আসরও রয়েছে অনিশ্চিয়তার মধ্যে। জুনে জার্মানিতে বিশ্বকাপ যদি স্থগিত হয়ে যায় তখন রোমানের ভাবনায় কেবলই থাকবে টোকিও অলিম্পিক। সেটিও যদি স্থগিত হয় তবে বিশেষ এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্প চালানোর ঝুঁকি নেওয়াটাও বিফল হবে আরচারদের জন্য।