করোনাভাইরাসে তুরস্কে মাত্র দুজনের মৃত্যু হলেও ইরানে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত এ সংখ্যা ১ হাজার ৪৩৩। যদিও দেশ দুটির ক্লোজ সীমান্ত রয়েছে। ইরানের মতো ভুল করেনি বলেই তুরস্ক এখনো নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে। আঙ্কারা নিজ উদ্যোগে ব্যাপকহারে পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষায় গুরুত্ব না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছেই। মজার বিষয় হলো ভারত যুক্তরাষ্ট্র নয়, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তুরস্কের ওপর।
দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, জাপান ও হংকংয়ের মতো যেসব দেশ ও অঞ্চল এখন পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে, পরীক্ষার ভিত্তিতেই। তারা শনাক্তদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে। সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে পরীক্ষায় অনাগ্রহের পরিণাম কী হতে পারে, তা টের পাচ্ছে ইতালি। যে ছোট্ট শহরের ৩ হাজার ৩০০ বাসিন্দা আক্রান্ত হয়েছিল, তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে পৃথক করে রাখা গেলে অন্যান্য এলাকায় সংক্রমণ ছড়াত না। এখন এ পদক্ষেপ নেওয়ায় ইতালিতে নতুন আক্রান্ত কমে গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন, পর্যাপ্ত পরীক্ষার অভাবেই এখন পর্যন্ত করোনা মহামারী মোকাবিলায় তারা অন্ধের বিরুদ্ধে লড়ছেন। কয়েক মাস পার হলেও সংক্রমণের কারণই জানা সম্ভব হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, সাধারণ সর্দির চেয়ে করোনা সংক্রমণ ২ দশমিক ৫ মাত্রায় বেশি হলেও প্রত্যেকের শরীরে উপসর্গ মেলে না। ব্রিটিশ সরকার বলছে, দেশে অন্তত ৫৫ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত বলে তাদের ধারণা। যদিও এখন পর্যন্ত মাত্র ২ হাজার ৬০০ জন শনাক্ত হয়েছে।
দ্য ইউনিভার্সিটি অব কলম্বিয়ার রোগ বিশেষজ্ঞ জেরি শ্যামন বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো পরীক্ষার জন্য প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন আক্রান্ত ধরা পড়ছে। এর পেছনে পরীক্ষার অপর্যাপ্ততা, অক্ষমতা, অনাগ্রহ, দাম্ভিকতার মতো অনেক কারণ রয়েছে।’
প্রাথমিক স্তরে অশনাক্ত ও উপসর্গবিহীন ঘটনা সামনে এলে, ভাইরাসকে কম গুরুতর মনে করা হয়। কম চিহ্নিতকরণের হার সরকারের জন্যও সমস্যা হয়ে দেখা দেয়। কাজের গতি কমিয়ে দেয় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সংকুচিত করে আনতে চায় তারা। জেরি শ্যামনের ভাষ্য, করোনার বেশির ভাগ প্রভাব মৃদু হলেও এখনো সংক্রামক। ফলে আক্রান্তরা কাজ, গণপরিবহন ও গণজমায়েতের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপনের মাধ্যমে ভাইরাসটি বিস্তৃত সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। তারা অজান্তেই অটো, ট্রেন ও বিমানের মাধ্যমে ভাইরাসটিকে নতুন জায়গায় নিয়ে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়া উপসর্গ না থাকলেও পরীক্ষা করেছে। কিন্তু ভারত উপসর্গ থাকার পরও পরীক্ষা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। কারণ মানবতার সঙ্গে ভাইরাসের প্রতিযোগিতা চললেও, মানবতা অনেক পিছিয়ে। এরই মধ্যে করোনায় ভারতে ‘সুনামি’ বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ডিজিজ ডায়নামিকস, ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিসির (সিডিডিইপি) পরিচালক ডা. রামানান লক্ষ্মীনারায়ণ। বিবিসিকে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে যে গাণিতিক মডেল প্রয়োগ করা হয়েছে, এই মডেল ভারতে প্রয়োগ করা হলে ৩০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ লাখ মানুষের অবস্থা আশঙ্কাজনক হতে পারে।