বাগেরহাট-৪: কেন্দ্রে পাওয়া যায়নি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট

করোনাভাইরাস নিয়ে সারা দেশে জনসাধারণের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই বাগেরহাটের একটি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

এই নির্বাচনী এলাকায় চোখে পড়ার মত ছিল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভোটারদের পরিচ্ছন্নতার সচেতনতা। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখে হাত ধোয়ার উপকরণ।

ভোটগ্রহণ শুরুর পর বিভিন্ন কেন্দ্র ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটদান কক্ষের সামনে লাইনও চোখে পড়ে।

তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও কমতে থাকে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মিত্রডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি রোধে ভোটকেন্দ্রে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে আনসার সদস্যরা ভোটারদের হাত ধুতে সহায়তা করছেন।

উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আমিরুল আলম মিলনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) সাজন কুমার মিন্ত্রী। তবে ভোটের দিনেও অনেক সাধারণ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা জাপার প্রার্থীকে চেনেন না।

বেলা ১২টা পর্যন্ত পাঁচটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, হাত ধুয়ে ভোটাররা লাইন ধরে ভোট দিচ্ছেন। কেন্দ্রে প্রবেশ মুখে লাগানো হয়েছে করোনাভাইরাস বিষয়ে সচেতনতামূলক ব্যানার। ভোট দানে কোনো প্রকার বাধা প্রদানের অভিযোগ করেননি কোনো দলের প্রার্থীরা।

মিত্রডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৩৬৭ জন ভোট প্রদান করে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৩৮৪ জন। কেন্দ্রের একটি কক্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্ট সোহাগ শেখ বলেন, ভোটার উপস্থিতি ভালো। ৮৫-৯০ ভাগ ভোট পড়বে বলে আশা তার।

কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘুরে এবং বিভিন্ন কেন্দ্র দায়িত্ব প্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবগুলো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্ট আছে। তবে দুই একটি কেন্দ্র এক দুজন ছাড়া কোথাও জাপার কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

তবে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরতে দেখ গেছে, জাপার প্রার্থী সাজন কুমার মিন্ত্রীকে।

তিনি বলেন, আমি এজেন্ট দিয়েছি। একটি ইউনিয়ন ছাড়া সবগুলো কেন্দ্রে আমি এজেন্ট দিছি। এখন এজেন্ট না এলে আমি কি করবো। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম বলেও দাবি করেন তিনি।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং শরণখোলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে মোট ১৪৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মোরেলগঞ্জের বরইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং জাপা প্রার্থী সাজন কুমার মিন্ত্রী একই উপজেলার কামলা জিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।

নৌকার প্রার্থী আমিরুল আলম মিলন বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসব মুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছেন। উৎসাহ নিয়েই সবাই কেন্দ্রে আসছেন। বিপুল ভোটে বিজয়ী হবার প্রত্যাশার কথাও বলেন তিনি।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে জুডিশিয়াল ও নির্বাহী মিলিয়ে ২৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত, ১০ প্লাটুন বিজিবি, পুলিশের ২০টি মোবাইল দল, র‌্যাবের ১০টি মোবাইল দল দায়িত্ব পালন করছে।

এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশের ১০টি মোবাইল দল ও ২ প্লাটুন কোস্ট গার্ড নির্বাচনী মাঠে রয়েছে।

বাগেরহাট-৪ উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভোটার উপস্থিতিও মোটামুটি ভালো। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনী এলাকার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ নেই।