করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আক্ষেপ করে বলেছেন, অনেকেই লকডাউনের গুরুত্ব বুঝছেন না।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধের মধ্যে এখনও অনেকে এই পরিস্থিতিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন না।
দেশের সমস্ত নাগরিককে করোনা সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, দেশে ক্রমশই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, এখনও পর্যন্ত ভারতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত কমপক্ষে ৩৯০, মারা গেছেন ৭ জন।
এদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত মহারাষ্ট্র, কেরালা, দিল্লি, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, পশ্চিমবঙ্গ, চণ্ডীগড়, ছত্তিশগড়, হিমাচলপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, পুদুচেরি এবং উত্তরাখণ্ডে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বন্ধ থাকবে আন্তরাজ্য বাস পরিষেবাও। শপিং মল, সিনেমা হল, স্কুল, কলেজ এবং জিমও বন্ধ বিভিন্ন রাজ্যে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সতর্ক না হলে ভারতের অবস্থাও চিন, ইতালির মতো হবে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার এক টুইট বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, অনেক মানুষ এখনও লকডাউনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন না। দয়া করে নিজেকে বাঁচান, আপনার পরিবারকে বাঁচান, এই নির্দেশগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করুন। আমি রাজ্য সরকারগুলোকেও অনুরোধ করছি যাতে সব রাজ্যগুলোতেই এই সব নির্দেশিকা মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।
এদিকে, করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দেশটির ল্যাবরেটরিগুলোতে ক্রমশই চাপ বাড়ছে। অনেকেই চাইছেন সতর্কতা স্বরূপ COVID-19 সংক্রমণ পরীক্ষা করিয়ে নিতে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় দেশটিতে এই ধরণের পরীক্ষা করার মতো কেন্দ্র কম। তাই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধুমাত্র সরকারি সংস্থাই নয়, অনেক প্রাইভেট ল্যাবরেটরিগুলিকেও এই ধরণের পরীক্ষা করার অনুমতি দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার বিকেল ৫টা থেকে লকডাউন শুরু পশ্চিমবঙ্গেও। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বন্ধ থাকবে রাজ্যের সব কিছু। শুধু মিলবে জরুরি এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই লকডাউন চলবে আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত।
সূত্র: এনডিটিভি অনলাইন।