রিসাইকেল প্লাস্টিকে সন্ন্যাসীদের মাস্ক

থাইল্যান্ডের একটি মন্দির প্রাঙ্গণে কমলা রঙের মাস্ক পরিহিত এক সন্ন্যাসী বসে আছেন। তার মুখে থাকা মাস্কের গায়ে লেখা ‘দুর্ভোগের অবসান’। এই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা পুনরায় ব্যবহার উপযোগী প্লাস্টিক দিয়ে ওই মাস্কগুলো তৈরি করেছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে থাইল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ৭২১ জন। ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধে দেশগুলো সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পর থাইল্যান্ডেও মাস্কের সংকট শুরু হয় অন্য দেশগুলোর মতো। তখন ওই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা সাধারণ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী প্লাস্টিক দিয়ে মাস্ক তৈরি শুরু করেন। থাই চাক দিয়েং মন্দিরটি আগে থেকেই পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিখ্যাত। মন্দিরটির প্রধান পুরোহিত প্রণাম ধম্মলংকারের উদ্যোগে প্রতি মাসে পনেরো টন প্লাস্টিক বোতল থেকে মন্দিরের সন্ন্যাসীদের জন্য পোশাক তৈরি করা হয়। মাস্কের মধ্যে বাড়তি একটি ফিল্টার ব্যবহার করেছেন তারা যা এর ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য স্প্রের ফোঁটা থেকে রক্ষা করবে।

মানসিক শান্তির জন্য বাড়তি হিসেবে সন্ন্যাসীরা মাস্কের গায়ে বুদ্ধের প্রার্থনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বাক্য লিখে দিচ্ছেন। যেমন ধরা যাক, কোনো মাস্কের গায়ে লিখা আছে, ‘সমস্যাটি জানার অর্থ দুর্ভোগের অবসানের উপায় খুঁজে পাওয়া’। অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মনে করেন কোনো একজনের সমস্যা অন্যজনের জ্ঞানের পথ উন্মুক্ত করে দেয়। যদিও প্রধান পুরোহিত ধম্মলংকার মনে করেন, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রার্থনাই একমাত্র উপায় নয়। ধম্মলংকার বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘যারা এসব বিষয় বিশ^াস করেন না, তাদের ক্ষেত্রে এর কোনো মানে নেই।’ করোনাভাইরাসের আতঙ্কের কারণে থাইল্যান্ডের রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। এর মধ্যেই সন্ন্যাসীরা বুদ্ধের শিক্ষা অনুসরণ করে সংকট থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজতে বলছেন।

থাইল্যান্ডের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তারপরেও ওই দেশের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা জাতিকে বাঁচাতে প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে একদল সন্ন্যাসী এয়ার বেলুনে করে আকাশ থেকে ‘পবিত্র পানি’ ছিটিয়েছে বাগান অঞ্চলে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সীমাবদ্ধতার জায়গা থেকে এগিয়ে আসছেন। কেউ সাহস জুগিয়ে, কেউ মাস্ক তৈরি করে, কেউবা স্যানিটাইজার তৈরি করে সাধারণের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন।