টেলিভিশন দেখে পড়াশোনা করবে শিক্ষার্থীরা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই যেন লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারে সে কারণে টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুগল, নিজস্ব ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে সোমবার মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘এটুআই’ প্রকল্পের সহযোগিতায় টেলিভিশনে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহ থেকেই পরীক্ষামূলক এবং আগামী সপ্তাহ থেকে নিয়মিতভাবে প্রচারে যাওয়া পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্লাস পরিচালনা প্রচারে সংসদ টেলিভিশনকেই হয়তো বেছে নেওয়া হবে। গত কয়েক দিন পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভালোমানের শিক্ষকদের ক্লাস রেকর্ডিং করা হয়েছে। আমরা চাই, একজন শিক্ষার্থী স্কুলে যতগুলো ক্লাস করত, এর সবই যেন পায়। এতে প্রতিদিন টিভিতে ১২ ঘণ্টা ক্লাস চালাতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা যেন অব্যাহত থাকে।

তিনি বলেন, টেলিভিশন ছাড়াও প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করতে পারে।

এদিকে ১ম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সকল ক্লাস পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। বিষয়টি নিশ্চিত করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভালোমানের শিক্ষকদের শ্রেণি পাঠের ক্লাস কার্যক্রম ভিডিও করে টেলিভিশনে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিকের পাঠদান অন্যান্য স্তরের মতো না হওয়ায় এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে আমরা অনলাইনে ভিডিও গ্রুপ কলের মাধ্যমে বৈঠক করা হয়েছে। কীভাবে প্রাথমিক স্তরের বাচ্চাদের টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া যায় সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলক এ ক্লাস সম্প্রচার করা হবে। এতে সফল হলে পাঠদান পূর্ণাঙ্গভাবে প্রচার করা হবে বলে জানান তিনি।

গত শুক্রবার প্রকাশিত ইউনেসকোর সব শেষ তথ্যে জানা যায়, বিশ্বের ১২৪টি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাসের কারণে জাতীয়ভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ দেশেই অনলাইনে লেখাপড়া চালু রয়েছে।