১২ দিন ধরে জ্বর। সঙ্গে প্রচণ্ড গলাব্যথা, শুকনা কাশি, কফ, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং পেটব্যথা। নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সব উপসর্গ থাকলেও ‘চিকিৎসা করাতে পারছেন না’ আতিকা রোমা নামের এক নারী। পরে বাধ্য হয়ে বুধবার বেলা সোয়া একটার দিকে ফেইসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করা রোমা পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। নেবুলাইজারের মাউথপিস (মাস্ক) পরা অবস্থায় ফেইসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন। তার লেখা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। রোমার দাবি তিনি আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে যোগাযোগ করেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত টেস্ট করাতে পারেননি। তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়নি!
রোমা লিখেছেন, ‘আমার বন্ধু রানু আমার অবস্থা দেখে রেগেটেগে সমস্ত শক্তি দিয়ে IEDCR. এর হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে পুরো ইতিহাস বলল। IEDCR কুর্মিটোলা হাসপাতালের এক প্রতিনিধি নাম ফারহা চৈতি উদ্বিগ্ন হয়ে ফোন করলেন। সব শুনে জানালেন ঐদিন রাতেই তারা আমাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাবে, কারণ আমি করোনা ভাইরাস সাসপেক্টটেড। আমি রাতটুকু সময় নিলাম সব কিছু গোছানোর জন্য। ঠিক হল সকাল ৮ টায় ওনাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাবে একটা টিম এসে। সারা রাত ঘুমাতে পারলাম না নানান চিন্তায়। সকাল ৮ টার আগে নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করলাম। নাহ তাদের কোন খবর নেই। নেই তো নেই। নিজেই সকাল ৯ টার দিকে চলে গেলাম কুর্মিটোলা হাসপাতালে। গিয়ে ডাক্তার ফারহা চৈতিকে ফোনের পর ফোন করলাম। উনি ধরলেন না। কি করবো কিচ্ছু জানিনা। এখান থেকে সেখান ছুটে বেড়ালাম সেই অসুস্থ শরীরে। ডাক্তার চৈতি ফোন করলেন বেলা ১১:৩০ এ। উনি যে আনতে যাননি বা যাবার কথা ছিল তার ধারপাশ দিয়েও গেলেন না।’
রোমা জানিয়েছেন, কুর্মিটোলায় চিকিৎসা না পেয়ে তার খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
রোমা লিখেছেন এভাবে, ‘ফ্লোরা ম্যাডাম সাথে সাথে কুর্মিটোলা থেকে বেরিয়ে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে যেতে বললেন আমাকে। ততক্ষণে আমি ভীষণ ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, ক্ষুধার্ত এবং হতাশ। সময় চেয়ে নিলাম। বাসায় ফিরে আমাকে গোসল করতেই হবে এবং খেতে হবে। তারপর যেতে হবে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে। সেখানে ফ্লোরা ম্যাডাম আমার জন্য সকল ব্যবস্থা করে রেখেছেন।’
‘বাসায় ফিরে ঘন্টাখানিক গোসল করলাম এমন ঘিনঘিনে অনুভূতি হয়েছে কুর্মিটোলা হাসপাতালে। সুস্থ মানুষ সেখানে অসুস্থ হতে বাধ্য। এরপর তৈরি হচ্ছি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে যাবার জন্য, কিন্তু মন কোন ভাবেই সায় দিচ্ছে না। কারণ IEDCR এর প্রস্তুতি নিয়ে আমি ভীষণ সন্দিহান। এরা ঠিক ভাংগা কলসির মত। এরপর মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আমার খালাতো ভাইকে জানালেন আমাকে করোনা ভাইরাস সম্ভবত এটাক করেনি। বাইরে বা হাসপাতালে থাকলে আমাকে ভাইরাস এটাক করবে। তাই হাসপাতালে থাকার দরকার নাই। আগে ব্লাড টেস্ট হোক। আমি হাসপাতালে থাকার ব্যাপারে একটুও আগ্রহী ছিলাম না নোংরা পরিবেশ এবং তাদের সার্ভিস কোয়ালিটি দেখে। মনে হয়েছিল ওখানে থাকলে আমি মারা যাব। আমি বাসায় থাকতে চাইলে ফ্লোরা ম্যাডাম রাজি হলেন। সিদ্ধান্ত হল বাসা থেকে আগে টেস্টের জন্য স্যাম্পল কালেক্ট করা হবে এবং আমাকে বাসার ভেতরে ১০০% isolation এ থাকতে হবে। পরের দিন অর্থাৎ গতকাল বাসা থেকে IEDCR এর লোকজন এসে ব্লাডের স্যাম্পল নিয়ে যাবে। সারাদিন অপেক্ষা। এই আসছি সেই আসছি বলে এখন পর্যন্ত কোন খবর নাই।’