নভেল করোনাভাইরাসে ইতালির ভয়াবহ পরিণতি দেখেও পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মানুষ শতভাগ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না। এ জন্য দেশগুলোর সরকারের ‘বিভ্রান্তিকর নির্দেশনা’কে দায়ী করছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা।
ভয়ংকর বৈশ্বিক এই মহামারির সময়ে ইউরোপবাসীদের আচরণ নিয়ে বৃহস্পতিবার দীর্ঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। সেখানে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক পার্ক থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যস্ত সৈকতে মানুষের আনাগোনা থেমে নেই।
ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার দিনগুলোতে ইতালিতে রীতিমতো ঢিমেতাল অবস্থা ছিল। যতদিনে (৯ মার্চ) পুরো দেশ লকডাউন করা হয়, ততদিন ভাইরাসটি হাজার হাজার মানুষের শরীরে ঢুকে যায়।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যানুসারে, পৃথিবীজুড়ে মৃতের সংখ্যা এখন ২১ হাজার ২৭৬। আক্রান্ত চার লাখ ৭১ হাজার। শুধু ইতালিতেই মারা গেছেন সাড়ে ৭ হাজারের বেশি!
চাইনিজ রেড ক্রসকে উদ্ধৃত করে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ মার্চের আগ পর্যন্ত ইতালিয়ানদের জেল-জরিমানা করেও ঘরে আটকে রাখা যায়নি।
এখন জার্মানি, লন্ডন এবং আমেরিকায়ও একই অবস্থা চলছে। ব্রিটেনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে গত সপ্তাহের ছুটির দিনেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
ওয়ারউইক বিজনেস স্কুলের আচরণগত বিজ্ঞানের প্রফেসর নিক চ্যাটার এ জন্য বিভিন্ন দেশের সরকারকে দুষছেন, ‘প্রশাসনের বার্তা খুবই মিশ্র এবং বিভ্রান্তিকর। অধিকাংশ দেশ নাগরিকদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। আপনার পরামর্শ কেউ শুনতে পারেন, নাও পারেন। দিতে হবে আদেশ। প্রয়োজনে আইন করতে হবে। নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকেই বের হলেই কারাদণ্ড দিতে হবে।’