চলতি বছরের মার্চে ফেনীতে বিদেশ থেকে এসেছেন ৪ হাজার ৫৬১ জন। এমন একটি তালিকা জেলা পুলিশের হাতে থাকলেও ঠিকানা ধরে খোঁজ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪৪ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে পেরেছে পুলিশ। বাকি ১ হাজার ৯১৭ জনের ঠিকানায় এখনো প্রবাস ফেরতদের পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, জেলায় এখনো ২ হাজার ৭৭০ জন প্রবাস ফেরতের কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও যৌথ বাহিনী কাজ করছে।
এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে হোম কোয়ারেন্টাইন লঙ্ঘনকারী প্রবাসীদের খুঁজতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোয়ারেন্টাইন মনিটরিং কমিটিও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ২৬ মার্চ পর্যন্ত জেলায় প্রবাস ফেরতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৫ জন। এর মধ্যে ফেনী সদরে ১ হাজার ২৬৭, দাগনভূঞা ৭২৯, পরশুরামে ২৫৩, ফুলগাজীতে ৪২২, ছাগলনাইয়ায় ৭৩৪ ও সোনাগাজীতে ৬৫০ জনের তালিকা রয়েছে।
এদের মধ্য থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত করে ১ হাজার ২৮৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
বাকি ২ হাজার ৭৭০ জনের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অনেক প্রবাসী হোম কায়ারেন্টাইন এড়াতে নিজ বাড়িতে না এসে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে উঠেছে। তারা সেখানে দেশে ফেরার সময় সঠিক ভাবে না বলায় স্বজনরা কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না।
এ ছাড়া বেশ কিছু প্রবাসী ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে সময় পার করছেন। তাই তাদের তালিকা প্রশাসনের হাতে থাকলেও অবস্থানের কোন তথ্য প্রশাসনের হাতে নেই।
জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাদের তত্ত্বাবধানে জেলায় ইতিমধ্যে ১ হাজার ২৮৫ জনের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন পালনকারী প্রবাসীদের মোবাইল নম্বরসহ একটি ডেটাবেইস তাদের কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে পুলিশ কোথায় থেকে আরও বেশি সংখ্যক প্রবাস ফেরতের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছে এ বিষয়টি তার জানা নেই।
এদিকে জেলা পুলিশের ডিআই ওয়ান সামছুল ইসলাম জানান, জেলায় চলতি মাসে ৪ হাজার ৫৬১ জন প্রবাস থেকে ফিরেছে। এর মধ্যে পুলিশ নিজস্ব সোর্স ও বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে ২ হাজার ৬৪৪ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৩২৪ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। বাকি ১ হাজার ৩২০ জনের কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৯১৭ জন প্রবাস ফেরত ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি। তারা কোথায় এবং কীভাবে রয়েছেন সে বিষয়ে আত্মীয়স্বজনদের থেকে জানতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেওয়া হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যাটি আমাদের কাছে সঠিক মনে হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে পাওয়া কোয়ারেন্টাইনের তথ্যগুলো আমরা ঢাকায় সরবরাহ করে আসছি। তবে পুলিশের মাধ্যমে ২ হাজার ৬৪৪ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।