আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে একশ্রেণির মতলববাজ গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণকে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে জনগণ যাতে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয় সেজন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সর্বদা সতর্ক পাহারায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
শুক্রবার দুপুরে সংসদ ভবনে সরকারি বাসভবনে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ করোনা সংকটের কারণে সারা বিশ্ব এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে। জাতিসংঘের মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে এমন ভয়াবহ সংকট কখনো সৃষ্টি হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দ্য ক্রাইসিস ইজ ফার ফ্রম ওভার। কবে যে সংকটের শেষ হবে তা এখন পর্যন্ত কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছেন না।
এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সারা বিশ্ব এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে দেশে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বাংলাদেশে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছি অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে। সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োচিত যথাযথ দায়িত্ব পালনে সরকার নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আমাদের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই এগিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসক-নার্সসহ আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন। দায়িত্ব পালনে কেউ কোনো অবহেলা করছেন না।
নানা ধরনের গুজব সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি বিষয় না বললেই নয়- এই সংকট সন্ধিক্ষণেও একশ্রেণির মতলববাজ মহল গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে চরিত্রহনন, ফেসবুকে অপপ্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার অশুভ পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, এই মতলববাজ মহলটি দেশের এই সংকটেও অসভ্য খেলায় মেতে উঠেছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, পার্টির নেতাকর্মীকে সচেতন হতে হবে এবং কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে, যাতে জনগণ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়। আমাদের নেতাকর্মীদের সর্বদা সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এই সংকট সন্ধিক্ষণে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ আজ কষ্ট পাচ্ছে। এদের একদিকে শেখ হাসিনার সরকার সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়িয়েছে, অন্যদিকে আমাদের পার্টির প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এসেছেন- এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক দিক।
ওবায়দুল কাদের তার ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা মেনে সবাইকে যার যার দায়িত্ব পালনে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সংকটে জনগণকে যাতে কেউ বিভ্রান্ত করতে না পারে, মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, সচেষ্ট থাকতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ধৈর্য হারা হওয়া যাবে না।