করোনা আক্রান্ত কম দেখাতে নতুন নামে হিসাব চীনের

গোটা বিশ্বে ত্রাস সৃষ্টি করা করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে। একপর্যায়ে রীতিমতো ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয় উহান।

এরপর করোনা তার কেন্দ্র পরিবর্তন করে ইতালির লোম্বার্ডি শহরকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে। এখন কার্যত করোনার কেন্দ্র হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর।

চীনের উহান থেকে সৃষ্ট ভাইরাসটি যখন ইউরোপ থেকে আমেরিকায় ত্রাস সৃষ্টি করে যাচ্ছে, তখন বলতে গেলে অনেকটা করোনা মুক্ত উহান তথা গোটা চীন। একেবারে আতশবাজির আয়োজন করে উহানকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়।

চীনের সংবাদমাধ্যমে এখন দেশটির করোনার হালনাগাদ তথ্য পাওয়াই কঠিন। কেবল করোনা মোকাবিলায় কোন কোন দেশকে চীন কী পরিমাণ সাহায্য দিচ্ছে সেই খবরে ঠাসা সংবাদমাধ্যমগুলো।

এতেই সন্দেহ দানা বাঁধে। হঠাৎ করেই করোনা সংক্রমণের চরিত্র কি বদলে গেল? পরে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, করোনা নিয়ে চীনের দেওয়া পরিসংখ্যান ‘ভুয়া’। বাস্তবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ‘অনেক বেশি’। কেবল উহানেই ৪২ হাজার মানুষ মারা গেছেন বলে দাবি করেছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

অবশেষে চীনও ‘কিছুটা স্বীকার’ করে নিয়েছে নিজেদের জোড়াতালির পরিসংখ্যান। তারা করোনায় নতুন সংক্রমণ হওয়া ব্যক্তিদের ‘উপসর্গহীন শ্বাসতন্ত্র সংক্রমণ’ হিসেবে আলাদা হিসাব রাখার বিষয়টি জানিয়েছে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, শুক্রবার দেশটিতে নতুন করে ১৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ জনই বিদেশ ফেরত। আক্রান্ত অপরজন হুবেই প্রদেশের। দেশটিতে নতুন করে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৬৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ৩২৬ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৭৬ হাজার ৭৫১ জন।

তবে ‘উপসর্গহীন শ্বাসতন্ত্র সংক্রমণ’ আক্রান্ত ৬৪ জন নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন। এ ধরনের মোট ১ হাজার ৩০ জন বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।