কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি এলাকায় ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি জামে মসজিদের সামনে ঘটনাটি ঘটেছে। সংঘর্ষে ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এ সংঘর্ষের ঘটনায় ছেলের আটকের খবর পেয়ে এক মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
আটকদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি আলী হোছনের ছেলে আহমেদ শরীফ। সংঘর্ষ চলাকালে আটক করা হয় ইসলাম মিয়ার ছেলে জাফর আলম (৪৮), আলী আহমদের ছেলে মমতাজ মিয়া, মৌলভী ইসলামের ছেলে সিরাজ উল্লাহ (২৮), বদিউল আলমের ছেলে হাকিম আলী।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
ঘটনার প্রত্যÿদর্শী এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার জালিয়াপালং পশ্চিম সোনাইছড়ি এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা গত কয়েকদিন পূর্বে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষে এনজিওকর্মী দেলোয়ার হোসেনসহ ৩ জনকে গুরুতর আহত হয়। ওই ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
ওই ঘটনায় উখিয়া থানায় দায়েরকৃত মামলার তালিকাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে শুক্রবার বিকেলে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে আহমদ শরীফকে আটক করে।
এদিকে আসামি আটক পরবর্তীতে উখিয়ার সোনাইছড়ি গ্রামের ইসলাম মিয়ার ছেলে শামসুল আলম সোহাগ ও বজল আহমদের ছেলে সানা উল্লাহসহ কয়েকজন বাদীপক্ষের উপর হামলা চালায় বলে প্রত্যÿদর্শীরা জানিয়েছে।
এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সাথে জড়িত জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের আলী হোসেনের স্ত্রী নুর নাহার বেগম তার ছেলে আহমেদ শরীফকে আটকের খবর পেয়ে মা স্ট্রোক করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ সাহা বলেন, নিয়মিত মামলার একজনকে আসামি করা হয়। পরে দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হলে আরো ৪জনকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানায়, ছেলে আটকের খবর পেয়ে আহমেদ শরীফের মায়ের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। বিষয়টি মানবিক বিবেচনার জন্য তাৎÿনিক জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশিøষ্টদের জানানো হয়েছে। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. মেরাজ হোসেন চয়ন বলেন, ওই নারীকে মৃত অবস্থায় কোটবাজার অরিজিন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। লাশের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু হয় বলে ধারণা করেন।
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ছেলে আটকের খবর পেয়ে মায়ের মুত্যুর বিষয়টি দুঃখজনক। আসামিপক্ষের কেউ আসলে মানবিক দিক বিবেচনা করে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়ার আলোচনা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সহকারী পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, উখিয়ার সোনাইছড়ি এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।