লক্ষ্মীপুরে জ্বর-খিঁচুনিতে ২ শিশুর মৃত্যু, ৯ পরিবার লকডাউন

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আড়াই বছরের এক শিশুর মারা যাওয়ার ৬ ঘণ্টার ব্যবধানের আরেক শিশু শরীরে জ্বর নিয়ে মারা গেছে।

এ ঘটনার পরপর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের তোরাবগঞ্জ গ্রামে নিহতের বাড়িসহ অপর শিশু চরমাটিন এলাকায় ৯ পরিবারকে লকডাউনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গাফফার এবং কমলনগর উপজেলার আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় আড়াই বছরের এক শিশু মারা যায় শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনিতে। এরপর শনিবার জ্বর নিয়ে একই উপজেলার চরমাটিন এলাকায় মারা যায় ৫ বছরের এক শিশু।

এ ঘটনায় দুই শিশুর বাড়ি ও আশপাশের ৯ পরিবারকে লকডাউনে রাখা হয়েছে। করোনা উপসর্গে মারা যাওয়া দুই শিশুর (শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি) নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী তার লাশ দাফন করা হবে।

স্থানীয় চরমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী মিয়া জানান, চরমার্টিন ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের ৫ বছরের এক শিশু গত ৩/৪ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। প্রথমে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হলেও পরে অবস্থার অবনতিতে শিশুটিকে নোয়াখালী হাসপাতালে নেওয়ার পথে শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

গত ৩/৪ মাসে শিশুটির পরিবারের কেউ বিদেশ থেকে দেশে ফেরেনি। তবে তার বাবা গত দুই বছর ধরে বিদেশ রয়েছেন। শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেছেন বলেও তিনি জানান।

কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পি মেডিকেল টিমের সঙ্গে ওই শিশুর বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেন; আশপাশের লোকজনকে সর্তক থাকতে বলেন এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করেন।

কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ নুরুল আবছার বলেন, তোরাবগঞ্জ ও মার্টিনে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ওই দুই বাড়ির নয় পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে।