করোনাভাইরাসের কারণে ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সব সিনেমা হল। সেই সঙ্গে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শুটিংও। করোনার এই ভয়াবহতা সিনেমা শিল্পে কতটা প্রভাব ফেলছে সে বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বললেন বাংলাদেশ প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু। তিনি জানালেন তার আশঙ্কার কথা।
খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে চলচ্চিত্রের এখানে যারা আছেন কয়েকজন শিল্পী এবং পরিচালক ব্যতীত সবার অবস্থায় খুবই খারাপ। আর্টিস্টের বাইরে মেকআপম্যান, প্রোডাকশন বয়, সহকারী পরিচালক সবাই শিফটে কাজ করেন। বলা যায় দিনের টাকা দিন নিয়ে যান। এর আগে নানা সময়ে হরতাল হয়েছে, কারফিউ হয়েছে নানা ধরনের সমস্যা হয়েছে কিন্তু এমন পরিস্থিতি কখনো পড়েনি চলচ্চিত্র শিল্প। কখনো এত দিনের জন্য শুটিং বন্ধ থাকেনি। এর ফলে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকেই সহযোগিতা করছেন। কিন্তু এটাকে আমি ত্রাণ সহায়তা বলব না আমি বলতে চাই তাদের পাশে আছি আমরা।’
কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমাদের শতকোটি টাকার ক্ষতি ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের সিনেমা হল বন্ধ, শুটিং বন্ধ, প্রোডাকশন বন্ধ। লকডাউনের কারণে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র যে লকডাউনের সময় থেকে এই ক্ষতি হচ্ছে তা কিন্তু নয়। চীনে যখন প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে তখন থেকেই সিনেমা হলে লোক কমে যায়। কারণ জনসমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশ রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের। সে কারণে সচেতন দর্শকেরা অনেক আগে থেকেই সিনেমা হল বর্জন করে। এর কারণে ফেব্রুয়ারি থেকেই সিনেমা হলের ব্যবসা শোচনীয় পর্যায়ে নেমে আসে। এর মধ্যে যে কয়টা সিনেমা মুক্তি পেয়েছে সব কয়টা সিনেমায় ফ্লপ খেয়েছে। এমনকি শাকিব খানের সিনেমাও ফ্লপ হয়েছে। আর ১৮ মার্চ থেকে তো আমাদের সব সিনেমা হলই তো বন্ধ। ফলে এই ক্ষতির পরিমাণ অনেক। আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবসের মতো উৎসবগুলো মিস করেছি। সামনে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষেও কিছু সিনেমা মুক্তির কথা ছিল। এগুলো এখন আর মুক্তি পাচ্ছে না। সামনের ঈদেও যে খুব একটা ব্যবসা হবে তাও কিন্তু বলা যাচ্ছে না। কারণ সবাই অলরেডি আতঙ্কের মধ্যে আছেন। সবাই কিন্তু জনসামাগম এড়িয়ে চলছেন। ইতিমধ্যেই শতকোটির টাকার ক্ষতি প্রযোজকেরা গুনছেন আরও কত ক্ষতি হবে তা হিসেব করা যাচ্ছে না।’
উত্তরণের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রযোজক সমিতির এই সভাপতি বলেন, ‘করোনার ধাক্কা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ মেয়াদে প্রভাব ফেলবে। কারণ আজ এই মুহূর্তেও যদি সরকার ঘোষণা দেয় যে করোনা নেই, বা করোনা উধাও হয়ে যায় তারপরও সিনেমা হলে মানুষ যাবে না। মূলত জনসমাগম এড়িয়ে চলার যে সচেতনতা এত দিন তৈরি হয়েছে সেই সচেতনতা থেকেই লোকজন সিনেমা হলে প্রবেশ করবেন না। এটা শুধু এখন নয়, সারা বছরই এর প্রভাব ফেলবে। এই মুহূর্তে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আর কোনো বিকল্প দেখছি না। আর কীভাবে এই শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব সেটাও গবেষণার বিষয়।’